জয়পুরে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার মুখে সিজেপি নেতারা, কাঠগড়ায় বিজেপি
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) জয়পুরের বাগরু এলাকার একটি সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি দেখতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সিজেপির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিজেপি সূত্রে জানা গেছে, সিজেপি নেতারা যখন গাড়ি নিয়ে বাগরু গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন একদল দুষ্কৃতকারী তাদের গাড়িটি ঘিরে ধরে। এ সময় তারা ‘শহুরে নক্সাল’, ‘জাতীয়তাবিরোধী’ ও ‘পাকিস্তানি’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে সিজেপির কয়েকজন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলার তীব্রতার কারণে শেষ পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে না গিয়েই দলটির নেতাদের ফিরে আসতে হয়।
এই হামলার জন্য ভারতের কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) দায়ী করেছে সিজেপি। দলটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা জানান, স্থানীয় গ্রামবাসীদের অনুরোধেই তারা ওই স্কুলটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি একটি গোয়ালঘরে পরিচালিত হচ্ছে।
হামলার বর্ণনা দিয়ে আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলটি একটি গোয়ালঘরে চালানো হচ্ছে। আমরা গত বছরও এই স্কুলে এসেছিলাম। আজকের সফরের বিষয়ে আমরা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপির গুণ্ডারা সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। তারা আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেছে। এমনকি এক নারী কর্মীকেও মারধর করা হয়েছে। হামলায় আমার শার্ট ছিঁড়ে গেছে এবং আমাদের এক সদস্যের হাত ভেঙে গেছে।”
রাঙ্কা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এই হামলার জন্য গ্রামবাসীদের কোনো দোষ নেই, কারণ তারাই তাদের ডেকেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির একজন কাউন্সিলর বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে এনে এই হামলা চালিয়েছেন এবং হামলাকারীদের মধ্যে টাকা বিলি করতেও তাকে দেখা গেছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জয়পুরের স্থানীয় বিজেপি নেতা ও বিধায়ক (এমএলএ) স্বামী বালমুখন্দ্রচার্য্য দাবি করেছেন, গ্রামবাসীরাই এই হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমি জানতে পেরেছি যে গ্রামের মানুষ সিজেপির এই সফরের বিরোধিতা করেছে। সিজেপি সেখানে যে ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিল, গ্রামবাসী তা চায়নি। তারা মূলত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে।”



























