মিরাজের সঙ্গে কেন তর্কে জড়ালেন স্টার্ক? ডারউইনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
- আপডেট সময় : ০৫:০০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের হতাশ করে বাংলাদেশ যখন দারুণ ব্যাটিং করছিল, তখনই মাঠের উত্তাপ বেড়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া দলের বোলার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডদের ব্যর্থতা তাদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি করেছিল, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্টার্ক ও মেহেদী হাসান মিরাজের মধ্যকার বাদানুবাদে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনাকে সরাসরি মধ্যস্থতা করতে হয়।
ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১০৩তম ওভারে (স্টার্কের করা ২১তম ওভার)। স্টার্কের করা ওই ওভারের পঞ্চম বলে পয়েন্টে বল ঠেলে দিয়ে রান নিতে ছোটেন মিরাজ। নিয়ম অনুযায়ী, বোলার বা ব্যাটসম্যান কাউকেই দৌড়ানোর সময় পিচের মাঝের সুরক্ষিত অংশ (প্রোটেক্টেড এরিয়া) দিয়ে দৌড়ানো যাবে না। মিরাজ যখন দৌড় শুরু করেন, তখন শুরুতে স্টার্কের দিকে তাকিয়ে থাকলেও পরে বলের দিকে নজর দেন। এরপর যখন তিনি আবার সামনে তাকান, ততক্ষণে স্টার্কের প্রায় মুখোমুখি হয়ে যান। ঘুরে যাওয়ার বদলে তিনি পিচের মাঝ দিয়েই দৌড় দেন, যা আম্পায়ার ধর্মসেনার নজরে পড়ে।
রান শেষ হওয়ার আগেই আম্পায়ার ধর্মসেনা মিরাজের কাছে গিয়ে সুরক্ষিত এলাকা দিয়ে দৌড়ানোর জন্য সতর্ক করেন। মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাখ্যা দেন যে বল দেখতে গিয়ে তিনি সামনে কী আছে তা খেয়াল করতে পারেননি। এই ঘটনার জেরেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্টার্ক মিরাজের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এটি তাঁর ফলো-থ্রুর জায়গা এবং মিরাজকে উইকেট ছেড়ে দিতে হবে। এর জবাবে মিরাজ জানান, বল দেখার কারণে তিনি সামনে কিছু দেখতে পাননি। ফেরার পথে স্টার্ককে বিরক্তির সঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি কিন্তু আর বাংলাদেশে নেই এখন, বুঝেছ?’
চ্যানেল সেভেনের ধারাভাষ্যে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিং অবশ্য মিরাজের পক্ষ নিয়ে বলেন, এটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। তাঁর মতে, বল দেখা শেষে তাকানোর পর স্টার্ককে সামনে দেখে মিরাজ পিচের মাঝ দিয়ে যাওয়াকেই সহজ পথ মনে করেছিলেন। ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকলসন মন্তব্য করেন যে, এটি মূলত মাঠে দীর্ঘ ও কঠিন দিন পার করা অজিদের হতাশারই প্রতিফলন।
নতুন বলের সুবিধা নিয়ে স্টার্ক শুরুতে ৩ উইকেট নিলেও দিনের শেষভাগে মিরাজ ও হাসান মাহমুদের প্রতিরোধ অস্ট্রেলিয়াকে বেশ ভোগায়। দিন শেষে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে প্রথম ইনিংসে ১৫৩ রানের লিড নিয়েছে। মিরাজ ৩২ রানে এবং হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।





























