পঞ্চগড়ে গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক নবধর্মান্তরিত গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে ভুক্তভোগী নারী দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নির্যাতনের শিকার ওই নারীর নাম কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম। তিনি উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। মামলায় নামীয় ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—একই আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম, সোহেল রানা, সাহেল খাতুন, সমসের আলী, আবুল হক ও সুজন ইসলাম।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কনিকা রায় এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে কুলসুম বেগম রাখেন। এরপর তিনি দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সোমবার রাতে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কুলসুমের ঘরে প্রবেশ করে। তারা ঘরে ঢুকেই প্রথমে গালিগালাজ শুরু করে। এরপর জোরপূর্বক কুলসুমের ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিয়ের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্ত রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই গৃহবধূর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এরপর কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে তার যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় রাকিব ইসলাম। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কুলসুম চিৎকার শুরু করলে তার স্বামী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এ সময় আসামিরা তার স্বামীকেও মারধর করে জখম করে।


























