শর্ত পূরণ হলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে: ইরান
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে ইরান। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, নতুন একটি নৌপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। তবে প্রণালিটি পুনরায় চালু করার বিষয়টি আরও কয়েকটি শর্তের ওপর নির্ভর করছে, যার মধ্যে ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকার জোলকদর আরও বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও আগ্রাসন বন্ধ করা, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করা, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বর্তমান পরিস্থিতিকে চুক্তির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশ এখন ঐক্য ও শক্তিতে বলীয়ান এবং যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরানকে শক্তিশালী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি জাহাজে আগুন ধরে গিয়েছিল, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ওমান এই জলপথে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করলেও, এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে দেশটি কোনো পক্ষকে সরাসরি দায়ী করেনি। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বর্তমান অবরোধের মধ্যেও মানবিক সহায়তার জন্য ৩০টির বেশি জাহাজকে হরমুজ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৫৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া ও দুটি জাহাজ অকার্যকর করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস-এর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি মূলত ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়টি ওমানের সঙ্গে আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এছাড়া আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আগে চালু থাকা 'শিপিং ট্রাফিক সেপারেশন স্কিম' এখন তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তাই স্থায়ী কোনো রুট নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী রুট নিয়ে আলোচনা চলছে।


























