পিঁপড়া যেভাবে এত নিখুঁতভাবে মিষ্টির উৎসের সন্ধান পায়
- আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

চা বানানোর সময় মেঝেতে সামান্য চিনির দানা পড়ে যাওয়া কিংবা টেবিলের কোণে মিষ্টির গুঁড়ো জমতে না জমতেই কোথা থেকে যেন সারি সারি পিঁপড়ার দল হাজির হয়। কোনো জ্যামিতিক নিখুঁত মাপে তারা ঠিকই খাবারের উৎসে পৌঁছে যায়। মানুষের অগোচরে থাকা মেঝের সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাবারের কণা পিঁপড়ারা কীভাবে এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে খুঁজে পায়, তা নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘদিনের কৌতুহল রয়েছে।
গবেষকদের মতে, পিঁপড়ারা তাদের মাথায় থাকা বিশেষ অ্যান্টেনা বা শুঁড়ের সাহায্যে মেঝের স্পর্শ ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। মানুষের অগোচরে থাকা এসব ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত তারা সহজেই ধরে ফেলে। মূলত পিঁপড়ার খাদ্য অনুসন্ধানের মূল কারিগর হলো তাদের এই অ্যান্টেনা। গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ার জিনোমে বিপুল পরিমাণ গন্ধ-সংবেদনশীল জিন রয়েছে।
২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা সায়েন্স জার্নাল পিএলওএস জেনেটিক্স-এ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, অন্যান্য পোকামাকড়ের তুলনায় পিঁপড়ার শরীরে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ঘ্রাণগ্রাহক বা স্মেল রিসেপ্টর থাকে। মানুষের কাছে যা সাধারণ একটি রান্নাঘর, পিঁপড়ার কাছে তা অগণিত রাসায়নিক তথ্যের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র।
রান্নাঘরে যে পিঁপড়ার আগমন ঘটে, তা কোনো একক প্রজাতির নয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রজাতির পিঁপড়াই খাদ্য অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট কিছু ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করে। ভারতে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে ৮০০-র বেশি প্রজাতির ও উপপ্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে, যার মধ্যে মানববসতিতে অন্তত ৩৪ প্রজাতির পিঁপড়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ১১আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৩৪



























