সিলেটে চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক আটক
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক-সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন (সোহান)। তিনি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে ইকবাল হোসেন খাতা দেখছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ দুজন বন্ধু খাতা মূল্যায়নে সহায়তা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দোকানে তখন এক বস্তা খাতা ছিল। দোকানদার ফজলুল হক জানিয়েছেন, ওই পরীক্ষক ও তাঁর সহপাঠীরা নিয়মিতই চা পান ও আড্ডা দিতে দোকানে আসতেন এবং শুক্রবার রাতেও তাঁরা একই কাজ করেছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা রাতে দোকানে গিয়ে খাতা দেখা অবস্থায় ওই পরীক্ষককে ধরেন। বর্তমানে তিনি শিক্ষা বোর্ডের হেফাজতে আছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা শিক্ষককে থানায় নিয়ে এসেছিলেন। থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তাঁকে তাঁরা নিজেরাই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান।
অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্তের বন্ধু আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কেবল ইকবালের সঙ্গে ছিলেন এবং খাতা মূল্যায়নের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। অভিযুক্ত শিক্ষক ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


























