ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল কক্সবাজার সৈকতে টর্নেডোর আঘাত: পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক মেক্সিকোর পুয়ের্তো মাদেরোতে ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হাজীগঞ্জে নির্বাচনী গণসংযোগ করলেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী টিটু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: রণধীর জয়সওয়াল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ঔপনিবেশিক দাসত্ব’ বললেন আনু মুহাম্মদ মিরসরাইয়ে চুরির দায়ে যুবককে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়িয়ে ক্ষমা বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট লড়াইয়ে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গুরুত্ব শিবিরের ম্যারাথন দৌড় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদ খানের মে মাসে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়ে ৪ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ঔপনিবেশিক দাসত্ব’ বললেন আনু মুহাম্মদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ভয়াবহ বাংলাদেশবিরোধী চুক্তি’ এবং ‘ঔপনিবেশিক দাসত্বের দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজনে এক গণজমায়েত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি এ চুক্তিকে ‘ফাউল’ আখ্যা দিয়ে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার চুক্তির যে ৩২ পৃষ্ঠার দলিল প্রকাশ করেছে, তা কোনোভাবেই একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হতে পারে না। বরং এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আদেশনামা বা হুকুমনামা। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করলেও বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কিছু জানাচ্ছে না। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার যদি কোনো অঙ্গরাজ্যকে এমন আদেশনামা দেয়, তবে সেই রাজ্যও তা মানবে না। অথচ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সরকার এই আদেশপত্র গ্রহণ করেছে, যা ঔপনিবেশিক দাসত্বের চেয়ে কম কিছু নয়।

চুক্তির ফলে দেশের পোলট্রি, মাছ ও ডিমসহ সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র শিল্পগুলো বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন অর্থনীতির এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, বিনা শুল্কে মার্কিন পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয় কমবে এবং সরকার জনগণের ওপর নতুন করের বোঝা চাপাবে। এছাড়া চুক্তিতে থাকা রাজনৈতিক ও সামরিক বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশকে মার্কিন করপোরেট স্বার্থের বিপরীতে কোনো দেশের সঙ্গে কৌশলগত বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধা দেবে, যা কার্যত বাংলাদেশকে হাতকড়া পরানোর শামিল।

ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের ধারণাকে ভুল উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ভারতের আধিপত্য যখন বাংলাদেশে ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করেছে৷ সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে পারে না৷ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতাকে বিপর্যস্ত করবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি দিল্লি, ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো বা টোকিও—কারও আধিপত্য স্বীকার না করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় সক্ষমতা রক্ষায় এই চুক্তি বাতিলের লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সংসদে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো এই দাসত্বমূলক চুক্তির বিষয়ে ‘অসম্ভব নীরবতা’ পালন করছে বলেও তিনি সমালোচনা করেন। কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ, সামিনা লুৎফা, মাহা মির্জা, সীমা দত্ত, বাংলাদেশ জাসদের নেতা মুশতাক হোসেন এবং সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নাটক, গান ও আবৃত্তিও পরিবেশিত হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ঔপনিবেশিক দাসত্ব’ বললেন আনু মুহাম্মদ

আপডেট সময় : ১০:১৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
print news

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ভয়াবহ বাংলাদেশবিরোধী চুক্তি’ এবং ‘ঔপনিবেশিক দাসত্বের দলিল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজনে এক গণজমায়েত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে তিনি এ চুক্তিকে ‘ফাউল’ আখ্যা দিয়ে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার চুক্তির যে ৩২ পৃষ্ঠার দলিল প্রকাশ করেছে, তা কোনোভাবেই একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হতে পারে না। বরং এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আদেশনামা বা হুকুমনামা। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করলেও বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কিছু জানাচ্ছে না। খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার যদি কোনো অঙ্গরাজ্যকে এমন আদেশনামা দেয়, তবে সেই রাজ্যও তা মানবে না। অথচ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সরকার এই আদেশপত্র গ্রহণ করেছে, যা ঔপনিবেশিক দাসত্বের চেয়ে কম কিছু নয়।

চুক্তির ফলে দেশের পোলট্রি, মাছ ও ডিমসহ সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র শিল্পগুলো বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেন অর্থনীতির এই অধ্যাপক। তিনি বলেন, বিনা শুল্কে মার্কিন পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয় কমবে এবং সরকার জনগণের ওপর নতুন করের বোঝা চাপাবে। এছাড়া চুক্তিতে থাকা রাজনৈতিক ও সামরিক বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশকে মার্কিন করপোরেট স্বার্থের বিপরীতে কোনো দেশের সঙ্গে কৌশলগত বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধা দেবে, যা কার্যত বাংলাদেশকে হাতকড়া পরানোর শামিল।

ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের ধারণাকে ভুল উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ভারতের আধিপত্য যখন বাংলাদেশে ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি করেছে৷ সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ভারতের আধিপত্য ঠেকাতে পারে না৷ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সক্ষমতাকে বিপর্যস্ত করবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি দিল্লি, ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো বা টোকিও—কারও আধিপত্য স্বীকার না করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় সক্ষমতা রক্ষায় এই চুক্তি বাতিলের লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সংসদে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো এই দাসত্বমূলক চুক্তির বিষয়ে ‘অসম্ভব নীরবতা’ পালন করছে বলেও তিনি সমালোচনা করেন। কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশিদ, সামিনা লুৎফা, মাহা মির্জা, সীমা দত্ত, বাংলাদেশ জাসদের নেতা মুশতাক হোসেন এবং সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নাটক, গান ও আবৃত্তিও পরিবেশিত হয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo