ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বকাপ ট্রফির পেছনের গল্প: নকশা থেকে চুরি হওয়ার ইতিহাস লন্ডন ভ্রমণে নুসরাত ফারিয়া, শেয়ার করলেন ৮টি ছবি ইংল্যান্ডকে অবমূল্যায়নের ভুল নিয়ে কড়া জবাব মাসচেরানোর বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা-স্পেন: মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস কাতারের আমিরের কাছে শোকবার্তা পৌঁছে দেশে ফিরলেন স্পিকার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিটোরকে ঘিরে অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্টের ভয়াবহ সিন্ডিকেট বাণিজ্য খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন আইন ও বিশেষ কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে

নিটোরকে ঘিরে অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্টের ভয়াবহ সিন্ডিকেট বাণিজ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন অসহায় রোগীদের ঘিরে এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট বাণিজ্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হাসপাতালেরই কিছু অসাধু চিকিৎসক, নার্স, ওটি বয় এবং বহিরাগতদের সাথে অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট (হিপ, নি, ট্রমা) বিক্রেতাদের যোগসাজশে এই চক্র গড়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চক্রটি নিজেদের সুবিধামতো ইমপ্ল্যান্টের চড়া মূল্য নির্ধারণ করে এবং রোগীদের অন্ধকারে রেখে নিম্নমানের ডিভাইস ব্যবহার করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি বাড়তি আয়ের জন্য অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত পুরনো অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট পুনরায় রোগীদের শরীরে ব্যবহারের মতো ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বাজারে স্টেইনলেস স্টিল ও টাইটানিয়াম—এই দুই ধরনের ইমপ্ল্যান্ট থাকলেও সেগুলোর মান ও মূল্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। চিকিৎসকরা প্রায়শই ইমপ্ল্যান্টের প্রকৃত বাজারদর গোপন রাখেন এবং অস্ত্রোপচারের পর কোন ব্র্যান্ড বা সাইজের পণ্য ব্যবহার করা হলো, তার কোনো দাপ্তরিক নথি বা ক্যাশ মেমো রোগীকে দেওয়া হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরবরাহকারী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রতিটি ইমপ্ল্যান্ট বিক্রির জন্য চিকিৎসকদের একটি নির্ধারিত কমিশন দিতে হয় এবং হাসপাতাল প্রশাসনের অলিখিত নির্দেশনায় রোগীদের কাছে ব্র্যান্ড বা ধাতুর তথ্য গোপন রাখা হয়।

অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মইনুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে ইমপ্ল্যান্টের মূল্য নির্ধারণ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি আরও জানান, দেশে মাত্র ৮ থেকে ১০টি বৈধ আমদানিকারক থাকলেও ৩০টিরও বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান লাগেজ পার্টির মাধ্যমে নিম্নমানের পণ্য আনছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন স্বীকার করেছেন যে, ইমপ্ল্যান্টের মূল্য নির্ধারণে অধিদপ্তর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

আইনি নিয়ম অনুযায়ী, অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইমপ্ল্যান্ট জীবাণুমুক্ত করে রোগীর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নিটোরে তা মানা হচ্ছে না। হাসপাতালের জীবাণুমুক্তকরণ শাখার এক কর্মচারী জানান, রোগীদের শরীর থেকে বের করা ইমপ্ল্যান্টের অধিকাংশই ফেরত দেওয়া হয় না। বিশেষ করে এক্সটার্নাল ফিক্সেশনের পিন, তার ও রড পুনরায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, যার সাথে ওটি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মচারীরা জড়িত।

নিটোরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, ইমপ্ল্যান্টের তথ্য বুঝে নেওয়া রোগীর স্বজনদের দায়িত্ব। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লেলিন চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, পুরনো ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে অস্ত্রোপচার কক্ষে নজরদারি বৃদ্ধি ও ইমপ্ল্যান্টে ইউনিক বারকোড সিস্টেম চালুর দাবি জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

নিটোরকে ঘিরে অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্টের ভয়াবহ সিন্ডিকেট বাণিজ্য

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
print news

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) চিকিৎসাধীন অসহায় রোগীদের ঘিরে এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট বাণিজ্য সক্রিয় হয়ে উঠেছে। হাসপাতালেরই কিছু অসাধু চিকিৎসক, নার্স, ওটি বয় এবং বহিরাগতদের সাথে অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট (হিপ, নি, ট্রমা) বিক্রেতাদের যোগসাজশে এই চক্র গড়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চক্রটি নিজেদের সুবিধামতো ইমপ্ল্যান্টের চড়া মূল্য নির্ধারণ করে এবং রোগীদের অন্ধকারে রেখে নিম্নমানের ডিভাইস ব্যবহার করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি বাড়তি আয়ের জন্য অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত পুরনো অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্ট পুনরায় রোগীদের শরীরে ব্যবহারের মতো ভয়াবহ অভিযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বাজারে স্টেইনলেস স্টিল ও টাইটানিয়াম—এই দুই ধরনের ইমপ্ল্যান্ট থাকলেও সেগুলোর মান ও মূল্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। চিকিৎসকরা প্রায়শই ইমপ্ল্যান্টের প্রকৃত বাজারদর গোপন রাখেন এবং অস্ত্রোপচারের পর কোন ব্র্যান্ড বা সাইজের পণ্য ব্যবহার করা হলো, তার কোনো দাপ্তরিক নথি বা ক্যাশ মেমো রোগীকে দেওয়া হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরবরাহকারী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রতিটি ইমপ্ল্যান্ট বিক্রির জন্য চিকিৎসকদের একটি নির্ধারিত কমিশন দিতে হয় এবং হাসপাতাল প্রশাসনের অলিখিত নির্দেশনায় রোগীদের কাছে ব্র্যান্ড বা ধাতুর তথ্য গোপন রাখা হয়।

অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মইনুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে ইমপ্ল্যান্টের মূল্য নির্ধারণ না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি আরও জানান, দেশে মাত্র ৮ থেকে ১০টি বৈধ আমদানিকারক থাকলেও ৩০টিরও বেশি অবৈধ প্রতিষ্ঠান লাগেজ পার্টির মাধ্যমে নিম্নমানের পণ্য আনছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আকতার হোসেন স্বীকার করেছেন যে, ইমপ্ল্যান্টের মূল্য নির্ধারণে অধিদপ্তর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

আইনি নিয়ম অনুযায়ী, অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ইমপ্ল্যান্ট জীবাণুমুক্ত করে রোগীর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও নিটোরে তা মানা হচ্ছে না। হাসপাতালের জীবাণুমুক্তকরণ শাখার এক কর্মচারী জানান, রোগীদের শরীর থেকে বের করা ইমপ্ল্যান্টের অধিকাংশই ফেরত দেওয়া হয় না। বিশেষ করে এক্সটার্নাল ফিক্সেশনের পিন, তার ও রড পুনরায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, যার সাথে ওটি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মচারীরা জড়িত।

নিটোরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, ইমপ্ল্যান্টের তথ্য বুঝে নেওয়া রোগীর স্বজনদের দায়িত্ব। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লেলিন চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, পুরনো ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার কেবল আর্থিক দুর্নীতি নয়, এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা অবিলম্বে অস্ত্রোপচার কক্ষে নজরদারি বৃদ্ধি ও ইমপ্ল্যান্টে ইউনিক বারকোড সিস্টেম চালুর দাবি জানিয়েছেন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin