ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ডাক্তার ও ডেন্টিস্ট নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছা শেখ হাসিনার, ভারতের অবস্থানে নেই কোনো পরিবর্তন নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে মার্কিন সামরিক বাহিনী চট্টগ্রাম বাদে আজ সব বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বরেকর্ডে ইতালির পাশে স্পেন অ্যানাকোন্ডার মতো আঁটসাঁট রক্ষণে ফ্রান্সের স্বপ্ন ভাঙল স্পেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড আর্জেন্টিনার আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল: যুক্তরাজ্য থেকে বাড়তি পুলিশ পাঠাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড আর্জেন্টিনার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল, জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো পরাশক্তিরা সেমিফাইনালে হোঁচট খেলেও আর্জেন্টিনা এই মঞ্চে অজেয়। ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলে প্রতিবারই জয়ী হয়ে ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তেরা।

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক শক্তিশালী দলই সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি এবং ফ্রান্সের মতো ফুটবল পরাশক্তিরা কোনো না কোনো সময় শেষ চারের লড়াইয়ে হেরেছে। তবে আর্জেন্টিনা এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা আজ পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি। ১৯৩০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা এবং প্রতিবারই তারা জয়ী হয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ফিফাও এই রেকর্ডকে আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম অনন্য কীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে মন্টেভিডিওর সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে। সেই ম্যাচে স্ট্রাইকার গিয়ের্মো স্টাবিলে জোড়া গোল করেছিলেন। এছাড়া কার্লোস পেউসেল দুটি, আলেসান্দ্রো স্কোপেল্লি ও লুইস মন্তিও গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেন। স্টাবিলে পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। আজতেকা স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তিনি দুই অর্ধে দুটি দুর্দান্ত গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে জয়ী করেন। অনেকেই মনে করেন, সেই বিশ্বকাপটি ছিল মূলত একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প।

১৯৯০ সালে নেপলসের সান পাওলো স্টেডিয়ামে ইতালির বিপক্ষে সেমিফাইনাল ছিল রোমাঞ্চকর। সালভাতোরে স্কিলাচির গোলে ইতালি এগিয়ে গেলেও ক্লদিও কানিজিয়ার হেডে আর্জেন্টিনা সমতা ফেরায়। টাইব্রেকারে সার্জিও গোইকোচিয়া ইতালির দুটি শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেন, যা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। টাইব্রেকারে গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো রন ফ্লার ও ওয়েসলি স্নাইডারের শট ঠেকিয়ে দিয়ে হন ম্যাচের নায়ক। তার নৈপুণ্যে ২৪ বছর পর আর্জেন্টিনা পুনরায় ফাইনালে ওঠে।

সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। মেসি নিজে পেনাল্টি থেকে গোল করেন এবং জুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে অসাধারণ একটি গোল করান। আলভারেজ নিজেও ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। স্টাবিলে, ম্যারাডোনা, গোইকোচিয়া, রোমেরো, মেসি ও আলভারেজের মতো নায়কদের হাত ধরে আর্জেন্টিনা বারবার সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই অদম্য ধারাবাহিকতা আর্জেন্টিনা ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে পারে কি না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড আর্জেন্টিনার

আপডেট সময় : ০৮:১৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
print news

বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক শক্তিশালী দলই সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। ব্রাজিল, জার্মানি, ইতালি এবং ফ্রান্সের মতো ফুটবল পরাশক্তিরা কোনো না কোনো সময় শেষ চারের লড়াইয়ে হেরেছে। তবে আর্জেন্টিনা এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা আজ পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি। ১৯৩০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা এবং প্রতিবারই তারা জয়ী হয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ফিফাও এই রেকর্ডকে আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম অনন্য কীর্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে মন্টেভিডিওর সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে আর্জেন্টিনা প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে। সেই ম্যাচে স্ট্রাইকার গিয়ের্মো স্টাবিলে জোড়া গোল করেছিলেন। এছাড়া কার্লোস পেউসেল দুটি, আলেসান্দ্রো স্কোপেল্লি ও লুইস মন্তিও গোল করে দলকে বড় জয় এনে দেন। স্টাবিলে পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন। আজতেকা স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তিনি দুই অর্ধে দুটি দুর্দান্ত গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে জয়ী করেন। অনেকেই মনে করেন, সেই বিশ্বকাপটি ছিল মূলত একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের গল্প।

১৯৯০ সালে নেপলসের সান পাওলো স্টেডিয়ামে ইতালির বিপক্ষে সেমিফাইনাল ছিল রোমাঞ্চকর। সালভাতোরে স্কিলাচির গোলে ইতালি এগিয়ে গেলেও ক্লদিও কানিজিয়ার হেডে আর্জেন্টিনা সমতা ফেরায়। টাইব্রেকারে সার্জিও গোইকোচিয়া ইতালির দুটি শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পৌঁছে দেন, যা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটে কোনো গোল হয়নি। টাইব্রেকারে গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো রন ফ্লার ও ওয়েসলি স্নাইডারের শট ঠেকিয়ে দিয়ে হন ম্যাচের নায়ক। তার নৈপুণ্যে ২৪ বছর পর আর্জেন্টিনা পুনরায় ফাইনালে ওঠে।

সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। মেসি নিজে পেনাল্টি থেকে গোল করেন এবং জুলিয়ান আলভারেজকে দিয়ে অসাধারণ একটি গোল করান। আলভারেজ নিজেও ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। স্টাবিলে, ম্যারাডোনা, গোইকোচিয়া, রোমেরো, মেসি ও আলভারেজের মতো নায়কদের হাত ধরে আর্জেন্টিনা বারবার সেমিফাইনালের বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই অদম্য ধারাবাহিকতা আর্জেন্টিনা ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে পারে কি না।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh