ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শামলিতে জিম থেকে বের হতেই গুলি, ২৫ সেকেন্ডে শেষ গায়কের জীবন ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৯১ জন গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ নেপাল সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসের নতুন ঝুঁকি, উদ্ধার অভিযান স্থগিত চীনের আগামী ৫ দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমবে গরম আশুলিয়ায় পত্রিকার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল কনডম তৈরির কারখানায় অভিযান সেপ্টেম্বরে নয়, জানুয়ারিতে হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন নরওয়ের রাজা হারাল্ড নেপালের ভয়াবহ বন্যা: বাংলাদেশের কাপ্তাই বাঁধের জন্য কি সতর্কবার্তা? গোয়াইনঘাটে ২৬ কোটির মহাসড়ক নির্মাণে বাধা ৯০ গাছ

খাওয়ার পর কেন ঘুম পায়? জানুন এর পেছনের কারণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুপুরের ভরপেট ভাত কিংবা রাতের পছন্দের কোনো খাবার শেষ করার পরপরই অনেকের শরীর যেন এলিয়ে পড়ে। চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা এবং কাজে মনোযোগ হারিয়ে বিছানায় গড়ানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সমনোলেন্স’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘ফুড কোমা’ হিসেবে পরিচিত। এই অলস অনুভূতির পেছনে মূল কারণ হলো শর্করা-সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে শরীরের হরমোনের একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পর চোখে যে ভারী ভাব আসে তা কেবল বেশি খাওয়ার কারণে হয় না। ভাত শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি ইনসুলিন নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে। এই প্রক্রিয়া রক্তপ্রবাহ থেকে ট্রিপটোফ্যান ছাড়া অন্যান্য অ্যামাইনো অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ট্রিপটোফ্যান কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই সহজে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে এটি সেরোটোনিন ও পরবর্তীতে মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়। এই রাসায়নিক পদার্থগুলো মূলত ঘুম নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী, যার ফলে শরীর শিথিল হয়ে আসে এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব তৈরি হয়। এটি সম্পূর্ণ একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে ইচ্ছাশক্তির চেয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ রসায়নের প্রভাব বেশি।

ভাত ও ঘুমের প্রভাব নিয়ে ২০২০ সালে ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ৬০ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে করা এই গবেষণায় একটি দলকে নিয়মিত ভাত খাওয়ানো হয় এবং অন্য দলের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ভাত খেয়েছেন, তাদের ঘুমের মানের স্কোরে উন্নতি ঘটেছে। এছাড়া রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভাত গ্রহণকারীদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা অন্যদের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। যেহেতু অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমলে শরীর ভালোভাবে সেরে উঠতে ও বিশ্রাম নিতে পারে, তাই ভাত-কেন্দ্রিক খাদ্যাভ্যাস ভালো ঘুমের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, খাওয়ার পর হালকা ঝিমুনি আসা শরীরের একটি সুস্থ লক্ষণ। তবে যদি এই ঘুমের তীব্রতা অস্বাভাবিক হয় এবং তা আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বা থাইরয়েডের কোনো সমস্যা আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

খাওয়ার পর কেন ঘুম পায়? জানুন এর পেছনের কারণ

আপডেট সময় : ১০:৪৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দুপুরের ভরপেট ভাত কিংবা রাতের পছন্দের কোনো খাবার শেষ করার পরপরই অনেকের শরীর যেন এলিয়ে পড়ে। চোখের পাতা ভারী হয়ে আসা এবং কাজে মনোযোগ হারিয়ে বিছানায় গড়ানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সমনোলেন্স’, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘ফুড কোমা’ হিসেবে পরিচিত। এই অলস অনুভূতির পেছনে মূল কারণ হলো শর্করা-সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে শরীরের হরমোনের একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পর চোখে যে ভারী ভাব আসে তা কেবল বেশি খাওয়ার কারণে হয় না। ভাত শর্করা-সমৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এটি ইনসুলিন নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে। এই প্রক্রিয়া রক্তপ্রবাহ থেকে ট্রিপটোফ্যান ছাড়া অন্যান্য অ্যামাইনো অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ট্রিপটোফ্যান কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই সহজে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে এটি সেরোটোনিন ও পরবর্তীতে মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়। এই রাসায়নিক পদার্থগুলো মূলত ঘুম নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী, যার ফলে শরীর শিথিল হয়ে আসে এবং তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব তৈরি হয়। এটি সম্পূর্ণ একটি জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেখানে ইচ্ছাশক্তির চেয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ রসায়নের প্রভাব বেশি।

ভাত ও ঘুমের প্রভাব নিয়ে ২০২০ সালে ‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। ৬০ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে করা এই গবেষণায় একটি দলকে নিয়মিত ভাত খাওয়ানো হয় এবং অন্য দলের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ভাত খেয়েছেন, তাদের ঘুমের মানের স্কোরে উন্নতি ঘটেছে। এছাড়া রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভাত গ্রহণকারীদের শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের মাত্রা অন্যদের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। যেহেতু অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমলে শরীর ভালোভাবে সেরে উঠতে ও বিশ্রাম নিতে পারে, তাই ভাত-কেন্দ্রিক খাদ্যাভ্যাস ভালো ঘুমের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, খাওয়ার পর হালকা ঝিমুনি আসা শরীরের একটি সুস্থ লক্ষণ। তবে যদি এই ঘুমের তীব্রতা অস্বাভাবিক হয় এবং তা আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বা থাইরয়েডের কোনো সমস্যা আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy