বিশ্বকাপে কেন নিষ্প্রভ ছিলেন হালান্দ? ম্যারাডোনার ছায়া কি তাড়া করল তাকে
- আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

মায়ামি স্টেডিয়ামে ৬৫ হাজার দর্শকের সামনে হ্যারি কেইন এবং আর্লিং হালান্দের লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটির নায়ক হয়ে উঠলেন জুড বেলিংহাম। তার জোড়া গোলে ইংল্যান্ড চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে শিরোপার অপেক্ষায় থাকা ইংল্যান্ড ৬৬ সালের পর আবারও জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত হ্যান্ডবল গোল আজও ব্রিটিশদের মনে ক্ষত হয়ে আছে, যদিও ম্যারাডোনা জীবিত অবস্থায় তাকে কেবল ‘ঈশ্বরের হাত’ বলেই আখ্যা দিয়েছিলেন।
ম্যাচটিতে আর্লিং হালান্দকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকে মনে করছেন, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা এবং জন্মসূত্রে ইংরেজ হওয়ায় হালান্দ হয়তো নিজের সেরাটা দিতে চাননি। আবার কেউ ভাবছেন, ম্যারাডোনার ন্যাপোলি যুগের মতো বিশ্বাসঘাতকতার অপবাদ এড়াতেই তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন কিনা। ১৯৯০ সালের ৩রা জুলাই ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ন্যাপোলির মাঠে ইতালির বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে অনেকে হালান্দের নীরবতাকে ভিন্ন চোখে দেখছেন।
ম্যাচটিতে হালান্দকে কড়া মার্কিংয়ে রাখা হয়েছিল। এছাড়া সতীর্থদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত বল না পাওয়ার আক্ষেপও ছিল তার। বিশেষ করে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার সরলথ বল পাস না দিয়ে নিজে গোল করার চেষ্টা করায় হালান্দকে বেশ বিরক্ত হতে দেখা গেছে। নরওয়ের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক ‘Aftenposten’ এই অভিজ্ঞতাকে অসীম কষ্টের বললেও পুরো বিশ্বকাপ যাত্রাকে একটি আনন্দময় উৎসব হিসেবে বর্ণনা করেছে।
খেলার প্রথমার্ধের শেষ দিকে নরওয়ে গোল শোধ করার সুযোগ পেলেও হালান্দের ফাউলের অভিযোগে তা বাতিল করা হয়। বেলিংহামের প্রথম গোলটি গোলরক্ষকের হাত ফসকে জালে জড়ায় এবং দ্বিতীয় গোলটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচে মিকেল মেরিনোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। তবে জয়ী দলের কোচ থমাস টুখেল দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের কাছ থেকে তিনি আরও ভালো খেলার প্রত্যাশা করেছিলেন এবং এই জয় নিয়ে তিনি বেশ হতাশ।
























