বেলিংহামের জোড়া গোলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি আবারও দেখা গেল। শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডের এই জয়ের নায়ক জুড বেলিংহাম, যিনি একাই দুটি গোল করেছেন। এটি চতুর্থবারের মতো ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার ঘটনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও টমাস টুখেলের শিষ্যরা সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। ৩৬ মিনিটে হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের শট পোস্টে লেগে জালে জড়ালে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ৪০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন আলেক্সান্দার সরলথ, কিন্তু আর্লিং হলান্ডকে বল না বাড়িয়ে তিনি একা খেলতে গিয়ে সুযোগ নষ্ট করেন। এর শাস্তি নরওয়েকে পেতে হয় বিরতির ঠিক আগে; প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গর্ডনের বাড়ানো বলে বাঁ পায়ের শটে সমতা ফেরান বেলিংহাম। কিছুক্ষণ পর কেইন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ের আক্রমণের ধার বাড়লেও ইংল্যান্ডের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি তারা। ৫৫ মিনিটে কর্নার থেকে টোরবিয়র্ন হেগেম গোল করলেও ভিএআর চেক করে দেখা যায় হলান্ড ফাউল করেছিলেন, ফলে গোলটি বাতিল হয়। ৭৬ মিনিটে ক্রিস্টোফার আয়েরের হেড ক্রসবারে লাগে এবং ফিরতি শটে হলান্ড ব্যর্থ হন। ৮৫ মিনিটে আন্তোনিও নুসার শট জর্ডান পিকফোর্ড রুখে দেন। নির্ধারিত সময়ে ইংল্যান্ড কোনো অন-টার্গেট শট নিতে না পারলেও ৮৭ মিনিটে সাকার ক্রস থেকে কেইন ও এবেরেচি এজে গোল করার সুযোগ মিস করেন।
অতিরিক্ত সময়ের ৯২ মিনিটে কেইনের হেড নরওয়ে গোলকিপার নিলান্ড ফিরিয়ে দিলেও পরের মিনিটেই মরগান রজার্সের শট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। সুযোগ সন্ধানী বেলিংহাম দ্রুত বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ৯৯ মিনিটে ইংল্যান্ড পেনাল্টি পেলেও ভিএআরে দেখা যায় স্পেন্স ডিফেন্ডারকে আগে টাচ করেছেন, ফলে পেনাল্টি বাতিল হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিবিসি লাইভে অ্যালান শিয়ারার ও পল রবিনসন অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নরওয়ে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও ১০৯ মিনিটে প্যাটট্রিক বার্গের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং পরের মিনিটে নিলান্ড দারুণ দক্ষতায় স্পেন্স ও সাকার শট ঠেকিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় নরওয়ে। প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ৬৩৬ দিন পর গোলহীন থাকলেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড, যাকে ১০৫ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ। অন্যদিকে, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুটি নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন বেলিংহাম। এর আগে শেষ ষোলোয় মেক্সিকোর বিপক্ষেও তিনি জোড়া গোল করেছিলেন।

























