ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পল্লবীতে ৮ বছর শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা নোয়াখালীর চাটখিলে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ঢাকা ডিবি পুলিশর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও ভুয়া ডিবি সহ গ্রেফতার-৪ কুমিল্লায় সাংবাদিকের ওপর হামলা কুমিল্লায় ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশে অস্ত্র সহ ৮ ডাকাত গ্রেফতার হজ্ব যাত্রীদের সরাসরি সূর্যের আলো থেকে নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানান ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফুলবাড়ীতে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু দিনাজপুরে ইট ভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা ঈদে ঘরমুখো মানুষকে স্বস্তি দিতে সৈয়দপুর রেলকারখানায় মেরামত হচ্ছে ১২৭ রেল কোচ সালিশ বৈঠকে বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, উত্তেজনা রূপগঞ্জে

কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত: ইসলামের ত্যাগ ও তাকওয়ার অনন্য শিক্ষা

হাফেজ মো: শাহরিয়ার বিন সাঈদ
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির এক মহান প্রতীক। প্রতি বছর জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনে মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। মহান আল্লাহ হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই বিধান দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

“অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর।”
— (সূরা আল-কাওসার: ২)

এই আয়াতে নামাজের পাশাপাশি কোরবানির নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যা ইসলামে এর বিশেষ গুরুত্বকে তুলে ধরে।

কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ

“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
— (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭)

অর্থাৎ কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের মানসিকতা অর্জন করা।

হাদিস শরিফেও কোরবানির ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা।”
— (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)

অন্য এক হাদিসে এসেছে—

“কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)

এছাড়াও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করে রাসূল ﷺ বলেছেন—

“যার সামর্থ্য আছে কিন্তু সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানি মানুষের মাঝে ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। কোরবানির গোশত গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতিও সুদৃঢ় হয়।

ফিকহ অনুযায়ী, যে মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, মুকিম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক—তার উপর কোরবানি ওয়াজিব।

আলেমরা বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার বাস্তব শিক্ষা। তাই মুসলমানদের উচিত ইখলাস ও তাকওয়ার সাথে সুন্নত অনুযায়ী কোরবানি আদায় করা এবং এর প্রকৃত শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।

🤲 দোয়া

হে আল্লাহ! আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং আমাদেরকে ইখলাস, তাকওয়া ও সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

✍️ লেখক

হাফেজ মোঃ শাহরিয়ার বিন সাঈদ
শিক্ষার্থী, জামাতে হেদায়া
ইসলামপুর (কৃষ্ণপুর) দারুল উলুম কওমী মাদরাসা,
বগুড়া সদর, বগুড়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত: ইসলামের ত্যাগ ও তাকওয়ার অনন্য শিক্ষা

আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
print news

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির এক মহান প্রতীক। প্রতি বছর জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনে মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। মহান আল্লাহ হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই বিধান দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

“অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর।”
— (সূরা আল-কাওসার: ২)

এই আয়াতে নামাজের পাশাপাশি কোরবানির নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যা ইসলামে এর বিশেষ গুরুত্বকে তুলে ধরে।

কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ

“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
— (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭)

অর্থাৎ কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের মানসিকতা অর্জন করা।

হাদিস শরিফেও কোরবানির ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা।”
— (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)

অন্য এক হাদিসে এসেছে—

“কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)

এছাড়াও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করে রাসূল ﷺ বলেছেন—

“যার সামর্থ্য আছে কিন্তু সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানি মানুষের মাঝে ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। কোরবানির গোশত গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতিও সুদৃঢ় হয়।

ফিকহ অনুযায়ী, যে মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, মুকিম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক—তার উপর কোরবানি ওয়াজিব।

আলেমরা বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার বাস্তব শিক্ষা। তাই মুসলমানদের উচিত ইখলাস ও তাকওয়ার সাথে সুন্নত অনুযায়ী কোরবানি আদায় করা এবং এর প্রকৃত শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।

🤲 দোয়া

হে আল্লাহ! আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং আমাদেরকে ইখলাস, তাকওয়া ও সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

✍️ লেখক

হাফেজ মোঃ শাহরিয়ার বিন সাঈদ
শিক্ষার্থী, জামাতে হেদায়া
ইসলামপুর (কৃষ্ণপুর) দারুল উলুম কওমী মাদরাসা,
বগুড়া সদর, বগুড়া।