ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত: ইসলামের ত্যাগ ও তাকওয়ার অনন্য শিক্ষা

হাফেজ মো: শাহরিয়ার বিন সাঈদ
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৫০৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির এক মহান প্রতীক। প্রতি বছর জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনে মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। মহান আল্লাহ হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই বিধান দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

“অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর।”
— (সূরা আল-কাওসার: ২)

এই আয়াতে নামাজের পাশাপাশি কোরবানির নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যা ইসলামে এর বিশেষ গুরুত্বকে তুলে ধরে।

কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ

“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
— (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭)

অর্থাৎ কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের মানসিকতা অর্জন করা।

হাদিস শরিফেও কোরবানির ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা।”
— (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)

অন্য এক হাদিসে এসেছে—

“কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)

এছাড়াও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করে রাসূল ﷺ বলেছেন—

“যার সামর্থ্য আছে কিন্তু সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানি মানুষের মাঝে ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। কোরবানির গোশত গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতিও সুদৃঢ় হয়।

ফিকহ অনুযায়ী, যে মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, মুকিম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক—তার উপর কোরবানি ওয়াজিব।

আলেমরা বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার বাস্তব শিক্ষা। তাই মুসলমানদের উচিত ইখলাস ও তাকওয়ার সাথে সুন্নত অনুযায়ী কোরবানি আদায় করা এবং এর প্রকৃত শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।

🤲 দোয়া

হে আল্লাহ! আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং আমাদেরকে ইখলাস, তাকওয়া ও সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

✍️ লেখক

হাফেজ মোঃ শাহরিয়ার বিন সাঈদ
শিক্ষার্থী, জামাতে হেদায়া
ইসলামপুর (কৃষ্ণপুর) দারুল উলুম কওমী মাদরাসা,
বগুড়া সদর, বগুড়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলত: ইসলামের ত্যাগ ও তাকওয়ার অনন্য শিক্ষা

আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির এক মহান প্রতীক। প্রতি বছর জিলহজ মাসের নির্ধারিত দিনে মুসলমানরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। মহান আল্লাহ হযরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এই বিধান দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

“অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড় এবং কোরবানি কর।”
— (সূরা আল-কাওসার: ২)

এই আয়াতে নামাজের পাশাপাশি কোরবানির নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যা ইসলামে এর বিশেষ গুরুত্বকে তুলে ধরে।

কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—

لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ

“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
— (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭)

অর্থাৎ কোরবানির মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা, তাকওয়া ও আত্মত্যাগের মানসিকতা অর্জন করা।

হাদিস শরিফেও কোরবানির ফজিলত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“কোরবানির দিনের আমলগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি করা।”
— (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৩)

অন্য এক হাদিসে এসেছে—

“কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)

এছাড়াও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করে রাসূল ﷺ বলেছেন—

“যার সামর্থ্য আছে কিন্তু সে কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৩)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানি মানুষের মাঝে ত্যাগের মানসিকতা গড়ে তোলে এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। কোরবানির গোশত গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতিও সুদৃঢ় হয়।

ফিকহ অনুযায়ী, যে মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী, মুকিম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক—তার উপর কোরবানি ওয়াজিব।

আলেমরা বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার বাস্তব শিক্ষা। তাই মুসলমানদের উচিত ইখলাস ও তাকওয়ার সাথে সুন্নত অনুযায়ী কোরবানি আদায় করা এবং এর প্রকৃত শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা।

🤲 দোয়া

হে আল্লাহ! আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং আমাদেরকে ইখলাস, তাকওয়া ও সুন্নাহ অনুযায়ী ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

✍️ লেখক

হাফেজ মোঃ শাহরিয়ার বিন সাঈদ
শিক্ষার্থী, জামাতে হেদায়া
ইসলামপুর (কৃষ্ণপুর) দারুল উলুম কওমী মাদরাসা,
বগুড়া সদর, বগুড়া।