সালিশ বৈঠকে বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, উত্তেজনা রূপগঞ্জে
- আপডেট সময় : ১২:১৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হককে সালিশ বৈঠকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ মে) রাতে উপজেলার বিরাবো বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল নেতা কাউসার আহমেদ ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল রামদা, ছুরি, ছেনি, এসএস পাইপ ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক হামলাকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, সোমবার রাতে বিরাবো বাজারে অনুষ্ঠিত ওই সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষ নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় কাউসার আহমেদের সমর্থকরা সালিশ বৈঠকে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোজাম্মেল হকের ওপর আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, মোজাম্মেল হকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমন সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

























