পল্লবীতে ৮ বছর শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা
- আপডেট সময় : ১০:১১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
রাজধানী ঢাকা মিরপুর পল্লবী এলাকায় ৭ বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ, মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানার পুলিশ।
১৯ মে মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের “ডিএমপি” অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার “ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন” এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ জানান, ১৯ মে মঙ্গলবার মিরপুরের পল্লবী সেকশন-১১, বি ব্লকের ৩৯ নম্বর বাসায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা, ১ পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির ১টি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি, সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভিতর থেকে আটকানো ছিল, মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়, এ সময় আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়, কিন্তু তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।
এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, সম্ভবত প্রথমে বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ কিছু করার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে “সিআইডি” পাঠানো হয়েছে, শিশুটির সঙ্গে আসামির কোন যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি জানান, মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়, হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়, কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়, পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি হত্যাকারী।
এস এন নজরুল ইসলাম আরো বলেন, প্রাথমিক ভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন হত্যাকারী।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১টি মামলা রয়েছে।
সোহেল রানা স্ত্রীর স্বপ্না আক্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌন রুচিসম্পন্ন ১টা লোক, তিনি তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও বিভিন্ন ভাবে টর্চার করেছেন।
ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পল্লবী থানা পুলিশ খবর পেয়ে সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
























