✍️ সম্পাদকীয়
সবর: সংকটকালে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

✍️ সম্পাদকীয়:
বর্তমান সময় নানা সংকট ও অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র—প্রতিটি জায়গায় মানুষ প্রতিনিয়ত চাপ ও পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে। এই বাস্তবতায় মানুষের মানসিক স্থিতি ধরে রাখা এবং সঠিক পথে অটল থাকা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসলাম এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যে গুণটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, তা হলো “সবর” বা ধৈর্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)
অন্যত্র বলা হয়েছে:
إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ
“ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হবে বিনা হিসাবেই।” (সূরা আজ-যুমার: ১০)
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতেও সবরের গুরুত্ব সুস্পষ্ট:
الصَّبْرُ ضِيَاءٌ
“সবর হলো আলো।” (সহিহ মুসলিম)
আজকের সমাজে আমরা লক্ষ্য করি, সামান্য প্রতিকূলতাতেই মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে, সিদ্ধান্তে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুল পথে পা বাড়ায়। অথচ ধৈর্য এমন একটি গুণ, যা মানুষকে শুধু সংকট মোকাবিলায় সক্ষম করে না, বরং তাকে সঠিক পথে অবিচল রাখে।
সবর মানে নিছক চুপ করে থাকা নয়; বরং এটি সচেতন আত্মনিয়ন্ত্রণ, আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা এবং সঠিক সিদ্ধান্তে অটল থাকার এক অনন্য শক্তি। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ—সবক্ষেত্রেই এই গুণের চর্চা অত্যন্ত জরুরি।
আমরা মনে করি, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সবরের শিক্ষা নতুন করে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এই গুণে উদ্বুদ্ধ করা গেলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সবর শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। সংকটময় সময়ে ধৈর্য ধারণই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সফলতার পথ।
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنَ الصَّابِرِينَ وَارْزُقْنَا الصِّدْقَ فِي التَّوَكُّلِ عَلَيْكَ
হে আল্লাহ, আমাদেরকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আপনার উপর সত্যিকারের ভরসা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



























