শাহজালাল এগ্রো কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহারে ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি কৃষকদের
- আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৫১১ বার পড়া হয়েছে

কৃষি নির্ভরশীল উত্তরের জেলা জয়পুরহাট এর কালাই উপজেলা। এ উপজেলা প্রবাদ আছে “আলু আর ধান কালাইয়ের প্রাণ”। অর্থকারী ফসল হিসেবে চলতি রবি মৌসুমে লাভের আশায় এ উপজেলার কৃষকরা তাদের জমিতে আলু লাগিয়েছেন। প্রতি শতকে ১১-১২শ’ টাকা ব্যায়ে নানা যত্নে লাগানো এ ফসল আশপাশের জমিতে ভালো থাকলেও শুধু ভাল নেই শাহজালাল এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহৃত জমির ফসল। ১৮-২০ জন আলুচাষী তাদের প্রায় ৩০ একর জমিতে নিয়মিত শাহজালাল কোম্পানির বালাইনাশক ডেল্টাসিল পাউডার ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু, শত চেষ্টা করেও তার তাদের ফসল রক্ষা করতে পারেনি। ফলে নষ্ট হয়েযায় সেসব জমির ফসল । এতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । জানাগেছে, এদের অনেকেই জমি লীজ (পত্তন) নিয়ে চাষাবাদ করে সংসার পরিচালনা করেন। তারা নিজেরা না খেলেও ফসল রক্ষার জন্য সর্বদায় সচেষ্ট থাকেন। সেই যত্নের ফসল নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পরেছে অসহায় কৃষকগুলি । শুধু তাই নয়, আলু রোপণ করতে গিয়ে দেনা হলে সেই দেনার টাকা পরিশোধের চিন্তায় এখন হতাশায় ভুগছেন তারা।
আকলাপড়া গ্রামের সোনাহার মন্ডল বলেন,
শাহাজালার এগ্রো কোম্পানির ডিলার আপেল মাহমুদের পরামর্শে আমার ৪.৫ একর জমিতে পরপর
কীটনাশক স্প্রে করলেও কাঙ্খিত ফসল কে রক্ষা করতে পারিনি। পত্তন নিয়ে চাষাবাদ করা জমির টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো এ চিন্তায় আমার পরিবারের সদস্যরা খাওয়া দাওয়া করতে পারছিনা। মাঠে এলে শুধু কান্না চলে আসে। এ ক্ষতি পোষাতে না পারলে বাড়িঘর বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করতে হবে।
করমকা গ্রামের ছাইদুর রহমান ও হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের এ মাঠে ১০ একর জমির ক্ষতি হয়েছে। ঐ কীটনাশক ব্যবহারে মহামারীরমত আমাদের ফসলের এ ক্ষতি হওয়াতে আমরা দিশেহারা হয়ে পরেছি। কি করবো কোন পথে যাবে তা ঠিক করতে পারছিনা। কোম্পানি যাতে আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয় সেজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের নজর দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
আকলাপাড়া গ্রামের মোজাফফর হোসেন বলেন, ফসল নিয়ে আমিত অনেক চিন্তায় আছিই। অপরদিকে, আমার গ্রামের এক ব্যক্তি ডেল্টাসিল কীটনাশক ব্যবহার করে আলু নষ্ট হওয়াতে দেনার টেনশনে ষ্টোক করে হাসপাতালে ভর্তি আছে । কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলসহ ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারকে এর প্রতি নজর দেওয়ার জোরদাবি জানাচ্ছি। যাতে করে পরবর্তীতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সেদিকেও লক্ষ্য রাখার আহবান করছি।
তেলিহার গ্রামের আনারুল ইসলাম বলেন, অন্য কম্পানির কীটনাশক ব্যবহারে আশেপাশের জমির আলুগাছ ভালো থাকলেও ভাল নেই শুধু আমরা যারা শাহজালাল এগ্রো কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করেছি। অন্যরা তাদের জমি থেকে ২০-২৫ দিন পর আলু ওঠাবে। আর আমাদের আলু গাছ নিশ্চিহ্ন হওয়াতে এক্ষুনি উঠাতে হচ্ছে। এতে করে কাংখিত ফসল থেকে বঞ্চিত হলাম। আর আলু যা হয়েছে তাতে উঠানোর খরচায় হবেনা । কম্পানির কাছে এর ক্ষতি পূরণ চাই।
শাহজালাল এগ্রো ইন্ড্রাষ্ট্রিজ কোম্পানির ডিলার আপেল মাহমুদ বলেন, আমিসহ জেলার অন্যান্য ডিলারদের মাধ্যম জানতে পারি এ কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহারে আমাদের জেলায় ১০০ একরের অধিক জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। শুধু কৃষক নই এ ঔষধ ব্যবহারের ফলে আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত। কোম্পানির সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা এ দায়ভার নিতে রাজি নন। কোম্পানির নিকট আমিসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি করছি।
কালাই উপজেলা কৃষি অফিসার অরুণ চন্দ্র রায় বলেন,
আমার অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা লিখিত অভিযোগ করলে কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যাতে করে কৃষকরা তাদের আর্থিক ক্ষতিটা পান।















