ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলগাজী আমজাদ হাট ধর্ষন মামলায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেফতার-১ সাজেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজিবির মানবিক সহায়তা ও শিক্ষা উপহরন বিতরণ ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা যুবকের মৃত্যুদন্ড সোনাগাজীতে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সেমিনার ঈদে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশের  ২য় পর্ব: ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা? রামিসা হত্যার বিচার ৭ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা গুলিস্থান ট্রেড সেন্টার মার্কেট দুর্নীতির আখড়া সাতক্ষীরার ১ তরুণীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞান পার্টির ২ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি সোহেলের যত অপকর্ম প্রকাশ্যে এলো

১৬ ডিসেম্বর পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের দিন

মোঃ মকবুলার রহমান, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ মকবুলার রহমান
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর আজ বাঙালি জাতি উদ্‌যাপন করছে বিজয়ের ৫৫তম বার্ষিকী। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার নীল আকাশে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক গৌরবোজ্জ্বল দিন আজ। হাজার বছরের সংগ্রাম, শৌর্য, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত স্বীকৃতির দিন এটি।

১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের বীজ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর রক্তাক্ত একুশ, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের টানা নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ—এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়েই আসে বিজয়। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি পায় চূড়ান্ত বিজয়। এই দিনেই বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ-এর।

জাতীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত ভারতীয় সেনা সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বিজয় দিবসকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক এবং স্বাধীনতার চূড়ান্ত অর্জনের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা মা-বোন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন ছিল না; অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। তবে দীর্ঘ পথচলার পরও জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি এখনো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বিজয় দিবসের বাণীতে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতার আলো বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আবারও একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুশাসিত ও উন্নত বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে যে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেই কর্মসূচি সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনমুখী টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপলক্ষ। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে যে গণতান্ত্রিক উত্তরণের যাত্রা শুরু হয়েছে, তা রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন আজ।

প্রধান উপদেষ্টা ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ দেশের জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হচ্ছে। দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নতমানের খাবার। একই সঙ্গে দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘর আজ বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

১৬ ডিসেম্বর পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের দিন

আপডেট সময় : ১০:০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
print news

মোঃ মকবুলার রহমান
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর আজ বাঙালি জাতি উদ্‌যাপন করছে বিজয়ের ৫৫তম বার্ষিকী। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার নীল আকাশে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক গৌরবোজ্জ্বল দিন আজ। হাজার বছরের সংগ্রাম, শৌর্য, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত স্বীকৃতির দিন এটি।

১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের বীজ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর রক্তাক্ত একুশ, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালের টানা নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ—এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়েই আসে বিজয়। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি পায় চূড়ান্ত বিজয়। এই দিনেই বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ-এর।

জাতীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে। প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত ভারতীয় সেনা সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বিজয় দিবসকে জাতীয় গৌরবের প্রতীক এবং স্বাধীনতার চূড়ান্ত অর্জনের স্মারক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা মা-বোন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন ছিল না; অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। তবে দীর্ঘ পথচলার পরও জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি এখনো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বিজয় দিবসের বাণীতে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতার আলো বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আবারও একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুশাসিত ও উন্নত বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে যে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেই কর্মসূচি সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

অধ্যাপক ইউনূস আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনমুখী টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উপলক্ষ। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে যে গণতান্ত্রিক উত্তরণের যাত্রা শুরু হয়েছে, তা রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন আজ।

প্রধান উপদেষ্টা ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, শান্তিময় ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ দেশের জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করা হচ্ছে। দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নতমানের খাবার। একই সঙ্গে দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘর আজ বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছে।