ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলগাজী আমজাদ হাট ধর্ষন মামলায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রেফতার-১ সাজেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজিবির মানবিক সহায়তা ও শিক্ষা উপহরন বিতরণ ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা যুবকের মৃত্যুদন্ড সোনাগাজীতে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সেমিনার ঈদে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্দেশনা গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশের  ২য় পর্ব: ধর্ষণের পেছনে দায়ী কে? সমাজ, নৈতিক অবক্ষয় নাকি বিচারহীনতা? রামিসা হত্যার বিচার ৭ দিনের মধ্যে শেষ হতে পারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা গুলিস্থান ট্রেড সেন্টার মার্কেট দুর্নীতির আখড়া সাতক্ষীরার ১ তরুণীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞান পার্টির ২ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি সোহেলের যত অপকর্ম প্রকাশ্যে এলো

রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি সোহেলের যত অপকর্ম প্রকাশ্যে এলো

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু

রাজধানী ঢাকা পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঘিরে সামনে বেরিয়ে এসেছে অতীত জীবনের সব অপকর্মের তথ্য, গ্রামে মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল সে, জুয়ায় জড়িয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়, ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গেও ছিল তার পরকীয়া সম্পর্ক, এ কারণে ভেঙ্গে যায় তার ১০ বছরের ১ম সংসার, ২য় বিয়ের পর ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও অপরাধ প্রবণতা কমেনি, সবশেষ পল্লবীর সাবলেট ঘরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস ভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় সে, পরে গ্রেফতার হয় পুলিশের হাতে।

রামিসার ধর্ষক, খুনি সোহেল রানার বাড়ি নাটোরের মহেশ চন্দ্রপুরে, সোহেল রানা নিজ এলাকায় রিকশা মেরামতের কাজ করত, ১০ বছর আগে ১ম বিয়ে করে, সেই ঘরে ১ সন্তানও আছে, তবে ছোট ভাইয়ের বউয়ের সঙ্গে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে, ৩ বছর আগে পাশের গ্রামে ২য় বিয়ে করে সে, মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ঋণে জর্জরিত হয়ে পরিবারের চাপে এলাকা ছাড়েন সোহেল রানা।

সোহেল রানা ঢাকায় এসে মিরপুর পল্লবীতে ১টি ফ্ল্যাটে সাবলেট নেয়, ওই বাসার কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিত ২ জনের তদবিরে সোহেলকে নিজ গ্যারেজে কাজ দেয়া হয়, ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মাসুদের দাবি, কেয়ারটেকারের কথায় তিনি সাবলেট দিয়েছিলেন।

কেয়ারটেকার মনির বলেন, পরিচিত আরও ২ জন আছে, ওরা বলল মিস্ত্রি আছে ১টা, নিবেন কি না, আমি বলি কোথায় কই, আপনারা যদি ভালো মনে করেন, তাহলে কাজ দেন, ১৫ দিন হাবভাব দেখলাম, ১ দিন ছুটি করে, ২ দিন ছুটি করে, ৩ দিন ছুটি করে, পরে আমি আমার গ্যারেজ থেকে ওরে না করে দিলাম আমার এখানে কাজে না আসার জন্য।

সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় সোহেল রানার থাকা এবং কাজের ব্যবস্থা করে দেন তাদের একই গ্রামের সাদ্দাম ও হানিফ, তারা জানান, ৬ মাস আগে গ্রামের কামাল নামে ১ জন সুপারিশ করেন, অবশ্য এ অভিযোগের ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন কামাল, ৬ মাস আগে সাদ্দামের মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের ১ বাসায় সাবলেট নেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী, নিয়মিত মাদক সেবন করায় তাদের ঐ বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

বিহারি ক্যাম্পের ওই বাড়ির মালিক বলেন, আমার বাসায় সে ২ মাস ছিল, সোহেল ইয়াবা সেবন করত, আমার ওয়াইফ এগুলো পছন্দ করে না, এ কারণে ওরে আমাদের বাসায় থাকতে না কইরা দিয়েছি।

সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম বলেন, ৩ বছর আগে পরিবার থেকে তাকে বাহির করে দেওয়া হয়, দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, মা-বাবার খাওয়ার খরচও দেয় না সেই, কোনো লেনদেনই নেই এর মধ্যে, এলাকায় মাদক, জুয়া সহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল সোহেল রানা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রামিসা হত্যাকাণ্ডের আসামি সোহেলের যত অপকর্ম প্রকাশ্যে এলো

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
print news

ফখরুল আলম সাজু

রাজধানী ঢাকা পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঘিরে সামনে বেরিয়ে এসেছে অতীত জীবনের সব অপকর্মের তথ্য, গ্রামে মাদক ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল সে, জুয়ায় জড়িয়ে ঋণে জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়, ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গেও ছিল তার পরকীয়া সম্পর্ক, এ কারণে ভেঙ্গে যায় তার ১০ বছরের ১ম সংসার, ২য় বিয়ের পর ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও অপরাধ প্রবণতা কমেনি, সবশেষ পল্লবীর সাবলেট ঘরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস ভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায় সে, পরে গ্রেফতার হয় পুলিশের হাতে।

রামিসার ধর্ষক, খুনি সোহেল রানার বাড়ি নাটোরের মহেশ চন্দ্রপুরে, সোহেল রানা নিজ এলাকায় রিকশা মেরামতের কাজ করত, ১০ বছর আগে ১ম বিয়ে করে, সেই ঘরে ১ সন্তানও আছে, তবে ছোট ভাইয়ের বউয়ের সঙ্গে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে, ৩ বছর আগে পাশের গ্রামে ২য় বিয়ে করে সে, মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ঋণে জর্জরিত হয়ে পরিবারের চাপে এলাকা ছাড়েন সোহেল রানা।

সোহেল রানা ঢাকায় এসে মিরপুর পল্লবীতে ১টি ফ্ল্যাটে সাবলেট নেয়, ওই বাসার কেয়ারটেকার মনির জানান, পরিচিত ২ জনের তদবিরে সোহেলকে নিজ গ্যারেজে কাজ দেয়া হয়, ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মাসুদের দাবি, কেয়ারটেকারের কথায় তিনি সাবলেট দিয়েছিলেন।

কেয়ারটেকার মনির বলেন, পরিচিত আরও ২ জন আছে, ওরা বলল মিস্ত্রি আছে ১টা, নিবেন কি না, আমি বলি কোথায় কই, আপনারা যদি ভালো মনে করেন, তাহলে কাজ দেন, ১৫ দিন হাবভাব দেখলাম, ১ দিন ছুটি করে, ২ দিন ছুটি করে, ৩ দিন ছুটি করে, পরে আমি আমার গ্যারেজ থেকে ওরে না করে দিলাম আমার এখানে কাজে না আসার জন্য।

সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় সোহেল রানার থাকা এবং কাজের ব্যবস্থা করে দেন তাদের একই গ্রামের সাদ্দাম ও হানিফ, তারা জানান, ৬ মাস আগে গ্রামের কামাল নামে ১ জন সুপারিশ করেন, অবশ্য এ অভিযোগের ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন কামাল, ৬ মাস আগে সাদ্দামের মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্পের ১ বাসায় সাবলেট নেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী, নিয়মিত মাদক সেবন করায় তাদের ঐ বাসা ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

বিহারি ক্যাম্পের ওই বাড়ির মালিক বলেন, আমার বাসায় সে ২ মাস ছিল, সোহেল ইয়াবা সেবন করত, আমার ওয়াইফ এগুলো পছন্দ করে না, এ কারণে ওরে আমাদের বাসায় থাকতে না কইরা দিয়েছি।

সোহেল রানার ছোট বোন জলি বেগম বলেন, ৩ বছর আগে পরিবার থেকে তাকে বাহির করে দেওয়া হয়, দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, মা-বাবার খাওয়ার খরচও দেয় না সেই, কোনো লেনদেনই নেই এর মধ্যে, এলাকায় মাদক, জুয়া সহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল সোহেল রানা।