ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারাকান্দায় ট্রান্সফরমার বিকল: দুই মাস ধরে অন্ধকারে দুই গ্রাম দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা ২০২৭ সালের হজের আগাম প্রস্তুতি শুরু করল সৌদি আরব হার্ভার্ডের অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি কুদসিয়া হুদা বগুড়ায় সাত মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৬ জনের প্রাণহানি ওমানের ওপর বোমা হামলার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে কুড়িগ্রামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেরপুর হাসপাতালে দালাল আটক, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় পুলিশে সোপর্দ রংপুরে সাংবাদিকদের থানায় ঢুকতে গলায় আইডি কার্ড ঝোলানোর নির্দেশ বগুড়ায় ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল আরডিএ

আমরা ভারতের কাছে কিছু চাই না, শুধু পানি চাই। আমরা বকশিশ চাই না, ভিক্ষা চাই না আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি চাই : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫ ১৯০ বার পড়া হয়েছে

আমরা ভারতের কাছে কিছু চাই না, শুধু পানি চাই। আমরা বকশিশ চাই না, ভিক্ষা চাই না আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি চাই : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

আজ (৪ মে) রবিবার বিকেলে তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত গণপদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি কখনোই মারণাস্ত্র হতে পারে না, যুদ্ধের অস্ত্রও হতে পারে না। কিন্তু একমাত্র ভারতই বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা পানি যুদ্ধের অস্ত্র ও মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছে কিছু চাই না, শুধু পানি চাইআমরা বকশিশ চাই না, ভিক্ষা চাই নাআমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি চাই। আজ না হোক, কাল দিতে হবে। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। পূর্ববর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে এই হিসাব-নিকাশ করেনি, কারণ তারা সরকারে থাকার ইচ্ছায় ভারতকে চাপে ফেলেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে ভারতের অনেক কিছু রয়েছে—মংলা পোর্ট, চট্টগ্রাম পোর্ট—সব হিসাব করতে হবে। হিসাব করার সময় এসেছে। আমাদের তিস্তার পানি চাই, ফারাক্কার পানি চাই। দেশের যেখানে পানি দরকার, সেখানে তা দিতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা বহু আগেই পানিন্যায্য হিস্যা পেতাম যদি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী সরকার না আসতো। তারা ভারতের কাছে কোনো দিন পানির দাবি তুলতে পারেনি।’

এ সময় তিনি বিএনপি নেতা আসাদুল হাবীব দুলুকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুলু উত্তরবঙ্গের প্রতিবাদী কণ্ঠ, একজন কৃতি সন্তান। তাই দুলু, তুমি সাবধানে থাকবে। ভারত কখনও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সহ্য করতে পারে না। এর আগেও সুরমা নদীর বাঁধ ইস্যুতে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে।’

মির্জা আব্বাস তিস্তা আন্দোলনের আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিস্তা আন্দোলন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমি এই আন্দোলনের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।’

এদিকে গণপদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুপুর ১টা থেকে তিস্তা নদীবেষ্টিত বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ রংপুর শহরে আসতে শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল নামে। “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই”—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শাপলা চত্বর এলাকা। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রংপুর শহরে সৃষ্টি হয় জনস্রোত। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়কগুলোতে। এই গণপদযাত্রা শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক সংগঠন, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পদযাত্রাটি এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নদীপারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এতে অংশ নেন।

গণপদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু। আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, বিএনপি নেতা এমদাদুল হক ভরসা সহ অনেকেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

আমরা ভারতের কাছে কিছু চাই না, শুধু পানি চাই। আমরা বকশিশ চাই না, ভিক্ষা চাই না আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি চাই : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

আপডেট সময় : ০৯:০৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।

আজ (৪ মে) রবিবার বিকেলে তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত গণপদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি কখনোই মারণাস্ত্র হতে পারে না, যুদ্ধের অস্ত্রও হতে পারে না। কিন্তু একমাত্র ভারতই বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে তারা পানি যুদ্ধের অস্ত্র ও মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছে কিছু চাই না, শুধু পানি চাইআমরা বকশিশ চাই না, ভিক্ষা চাই নাআমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যার পানি চাই। আজ না হোক, কাল দিতে হবে। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। পূর্ববর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে এই হিসাব-নিকাশ করেনি, কারণ তারা সরকারে থাকার ইচ্ছায় ভারতকে চাপে ফেলেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে ভারতের অনেক কিছু রয়েছে—মংলা পোর্ট, চট্টগ্রাম পোর্ট—সব হিসাব করতে হবে। হিসাব করার সময় এসেছে। আমাদের তিস্তার পানি চাই, ফারাক্কার পানি চাই। দেশের যেখানে পানি দরকার, সেখানে তা দিতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা বহু আগেই পানিন্যায্য হিস্যা পেতাম যদি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী সরকার না আসতো। তারা ভারতের কাছে কোনো দিন পানির দাবি তুলতে পারেনি।’

এ সময় তিনি বিএনপি নেতা আসাদুল হাবীব দুলুকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুলু উত্তরবঙ্গের প্রতিবাদী কণ্ঠ, একজন কৃতি সন্তান। তাই দুলু, তুমি সাবধানে থাকবে। ভারত কখনও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সহ্য করতে পারে না। এর আগেও সুরমা নদীর বাঁধ ইস্যুতে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে।’

মির্জা আব্বাস তিস্তা আন্দোলনের আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, ‘তিস্তা আন্দোলন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমি এই আন্দোলনের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।’

এদিকে গণপদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুপুর ১টা থেকে তিস্তা নদীবেষ্টিত বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ রংপুর শহরে আসতে শুরু করেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল নামে। “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই”—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে শাপলা চত্বর এলাকা। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রংপুর শহরে সৃষ্টি হয় জনস্রোত। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় প্রধান সড়কগুলোতে। এই গণপদযাত্রা শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক সংগঠন, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পদযাত্রাটি এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে নদীপারের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এতে অংশ নেন।

গণপদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু। আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, বিএনপি নেতা এমদাদুল হক ভরসা সহ অনেকেই।