ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাশুড়ির পরকীয়া ফাঁস করে দেওয়ায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা হোমনায় ৬০ কেজি গাঁজা সহ প্রাইভেট কার জব্দ, চালক পলাতক ফুলগাজীতে পুলিশের অভিযান ইয়াবা সহ আটক-২ কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বিদেশী পিস্তল সহ গ্রেফতার-১ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে দেশসেরা তালিকায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ, ৩য় স্থান অর্জন করল আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র কালবৈশাখী ঝড় সালিশি বৈঠককে কেন্দ্র করে রূপগঞ্জে সশস্ত্র হামলা, গুলি ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা বিভিন্ন আয়োজনে রংপুর কমিউনিটি নার্সিং কলেজে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস অনুষ্ঠিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আবারও আশার আলো দেখছেন উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা ফুলগাজীর আমজাদহাটে জাল টাকার নোট সহ আটক-১

দামে মানে মিল না থাকায় জৌলুশ হারাচ্ছে চকবাজারের ইফতারি

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

দামে মানে মিল না থাকায় জৌলুশ হারাচ্ছে চকবাজারের ইফতারি

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও গত কয়েক বছর ধরে বাজারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন, ক্রেতাদের অভিযোগ দাম বেশি এবং মান খারাপ হওয়ায় কেনা-কাটায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রতারা,

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না। এক্ষেত্রে নতুন বিক্রেতাদের অনভিজ্ঞতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে দায়ী করছেন তাঁরা।

৭ মার্চ শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আজ শুক্রবার ছুটির দিন হলেও চিরচেনা ভিড় নেই চকবাজারে, উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা কম ইফতার সামগ্রী কিনছেন।

ক্রেতাদের আকর্ষণ বড় বাপের পোলায় খায় ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়, চিকেন সাসলিক, আস্ত কোয়েল, আস্ত খাসির রান ভুনা, সুতি কাবাব, শরবত-ই মোহাব্বত প্রভৃতির চড়া মূল্যের কারণে এসব পণ্যের বিক্রি কমেছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে জানা যায় যে, চকবাজারের অধিকাংশ মুখরোচক আইটেমই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারছেন না অনেকেই।

রাশিম মোল্লা নামের এক ক্রেতা জাগো সাংবাদিকদের বলেন, ইফতারির কমন আইটেম গুলোর দাম অনেকটা বেশি। পরিবারের জন্য ইফতারি নিতে গেলে কমপক্ষে একদিনে হাজার টাকা উপর বেশী খরচ করতে হবে।

আরেক ক্রেতা জামিল হোসেন জানান, চকবাজারের ইফতারির স্বাদ আগের মতো নেই, অনেক দূর থেকে মানুষ আসে মুখ রোচক এসব খাবারের টানে, অথচ আগের সেই মান এখন আর নেই, এরপর আবার দাম বেশি।

রামপুরা থেকে চকবাজারে ইফতার কিনতে আসা ফয়সাল বিল্লাহ ক্রেতা বলেন, প্রতিবছর এখানে আসি, কিন্তু খাবারের মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

যে মশলা ব্যবহার হচ্ছে, এতে অসুস্থ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, এর মাঝে দামও অনেক বেশি, তাই আগের মতো কেনা-কাটা করছি না

তবে বিক্রেতারা বলছেন, নতুন অনেক বিক্রেতা বাজারে প্রবেশ করায় পণ্যের গুণগত মান কমছে, যা ক্রেতাদের আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ।

চকবাজারে ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন মো. ফারুক মিয়া তিনি বলেন, তিন পুরুষ ধরে এখানে ব্যবসা করছি, এটা মুঘল ঐতিহ্যের ইফতার, যদিও এখন অনেক সমালোচনা হচ্ছে, এর কারণ অনেক নতুন দোকানি এসেছেন যারা ইফতার সামগ্রীর মান ঠিক রাখতে পারে না

ফলে ক্রেতারা সন্তুষ্ট নয়, বিক্রিও কম, এরপরও অনেক পুরোনো ব্যবসায়ী আছেন যারা খাবারের মান কিন্তু ধরে রেখেছেন।

ব্যবসায়ীরা অনেকে বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে মান ও দাম নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে বিক্রেতাদের। নাহলে আগামীতে চকবাজারের ইফতারির জনপ্রিয়তা কমতে পারে।

৩০ টাকা, দুধ নান ৬০ টাকা, আলু পরোটা ৩০ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শাহী পরোটা ৭০ টাকা পিস, চিকেন সাসলিক ৫০ টাকা পিস, পনির ৮০০ টাকা কেজি ও শাহী জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, দইবড়া ১৫০ টাকা কেজি, বাটার নান ১৫০ টাকা পিস, রেশমি কাবাব ১২০ টাকা পিস, ফালুদা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাটি ও মুড়ি মানভেদে ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পানীয়ের মধ্যে শরবত-ই মোহাব্বত প্রতি লিটার ২০০ টাকা, মাঠা ১০০ টাকা, শাহী মালাই শরবত ১০০-২০০ টাকা এবং লাবাং ২২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করে দেখা গেছে।

শাহী পরোটা বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, সপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার হিসেবে ক্রেতা কম, এই এলাকার হিজিবিজি অবস্থা, পাশাপাশি তীব্র যানজটের কারণে অনেকে আসতে চান না, একটা সময় অনেক দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসতো, এখন আর আসে না, প্রতিদিন ১০০ পিস পরোটা বিক্রির টার্গেট থাকে, দুপুরের পর থেকে ৩০টা পরোটা বিক্রি করেছি মাত্র।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

দামে মানে মিল না থাকায় জৌলুশ হারাচ্ছে চকবাজারের ইফতারি

আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫
print news

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও গত কয়েক বছর ধরে বাজারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন, ক্রেতাদের অভিযোগ দাম বেশি এবং মান খারাপ হওয়ায় কেনা-কাটায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রতারা,

ব্যবসায়ীরাও বলছেন, প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না। এক্ষেত্রে নতুন বিক্রেতাদের অনভিজ্ঞতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে দায়ী করছেন তাঁরা।

৭ মার্চ শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আজ শুক্রবার ছুটির দিন হলেও চিরচেনা ভিড় নেই চকবাজারে, উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা কম ইফতার সামগ্রী কিনছেন।

ক্রেতাদের আকর্ষণ বড় বাপের পোলায় খায় ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়, চিকেন সাসলিক, আস্ত কোয়েল, আস্ত খাসির রান ভুনা, সুতি কাবাব, শরবত-ই মোহাব্বত প্রভৃতির চড়া মূল্যের কারণে এসব পণ্যের বিক্রি কমেছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতে জানা যায় যে, চকবাজারের অধিকাংশ মুখরোচক আইটেমই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারছেন না অনেকেই।

রাশিম মোল্লা নামের এক ক্রেতা জাগো সাংবাদিকদের বলেন, ইফতারির কমন আইটেম গুলোর দাম অনেকটা বেশি। পরিবারের জন্য ইফতারি নিতে গেলে কমপক্ষে একদিনে হাজার টাকা উপর বেশী খরচ করতে হবে।

আরেক ক্রেতা জামিল হোসেন জানান, চকবাজারের ইফতারির স্বাদ আগের মতো নেই, অনেক দূর থেকে মানুষ আসে মুখ রোচক এসব খাবারের টানে, অথচ আগের সেই মান এখন আর নেই, এরপর আবার দাম বেশি।

রামপুরা থেকে চকবাজারে ইফতার কিনতে আসা ফয়সাল বিল্লাহ ক্রেতা বলেন, প্রতিবছর এখানে আসি, কিন্তু খাবারের মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

যে মশলা ব্যবহার হচ্ছে, এতে অসুস্থ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, এর মাঝে দামও অনেক বেশি, তাই আগের মতো কেনা-কাটা করছি না

তবে বিক্রেতারা বলছেন, নতুন অনেক বিক্রেতা বাজারে প্রবেশ করায় পণ্যের গুণগত মান কমছে, যা ক্রেতাদের আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ।

চকবাজারে ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন মো. ফারুক মিয়া তিনি বলেন, তিন পুরুষ ধরে এখানে ব্যবসা করছি, এটা মুঘল ঐতিহ্যের ইফতার, যদিও এখন অনেক সমালোচনা হচ্ছে, এর কারণ অনেক নতুন দোকানি এসেছেন যারা ইফতার সামগ্রীর মান ঠিক রাখতে পারে না

ফলে ক্রেতারা সন্তুষ্ট নয়, বিক্রিও কম, এরপরও অনেক পুরোনো ব্যবসায়ী আছেন যারা খাবারের মান কিন্তু ধরে রেখেছেন।

ব্যবসায়ীরা অনেকে বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে মান ও দাম নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে বিক্রেতাদের। নাহলে আগামীতে চকবাজারের ইফতারির জনপ্রিয়তা কমতে পারে।

৩০ টাকা, দুধ নান ৬০ টাকা, আলু পরোটা ৩০ টাকা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া শাহী পরোটা ৭০ টাকা পিস, চিকেন সাসলিক ৫০ টাকা পিস, পনির ৮০০ টাকা কেজি ও শাহী জিলাপি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, দইবড়া ১৫০ টাকা কেজি, বাটার নান ১৫০ টাকা পিস, রেশমি কাবাব ১২০ টাকা পিস, ফালুদা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাটি ও মুড়ি মানভেদে ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পানীয়ের মধ্যে শরবত-ই মোহাব্বত প্রতি লিটার ২০০ টাকা, মাঠা ১০০ টাকা, শাহী মালাই শরবত ১০০-২০০ টাকা এবং লাবাং ২২০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করে দেখা গেছে।

শাহী পরোটা বিক্রেতা আব্দুল কাদের জানান, সপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার হিসেবে ক্রেতা কম, এই এলাকার হিজিবিজি অবস্থা, পাশাপাশি তীব্র যানজটের কারণে অনেকে আসতে চান না, একটা সময় অনেক দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসতো, এখন আর আসে না, প্রতিদিন ১০০ পিস পরোটা বিক্রির টার্গেট থাকে, দুপুরের পর থেকে ৩০টা পরোটা বিক্রি করেছি মাত্র।