ঢাকা ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় সড়ক দখলমুক্ত করতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ শুটিংয়ের সেটে বড় বিপদের মুখে অভিনেতা ইমরান হাশমি বগুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের হাজারো ঘর এখন মাদকসেবীদের আস্তানা ৫৮৩ শ্রমিকের হাতে ৫ কোটি টাকার অনুদানের চেক তুলে দিলেন মন্ত্রী ৭ মিনিটে ৩ গোল, রোমার বিপক্ষে রিয়ালের অবিশ্বাস্য জয় নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভ বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন ভারতের তরুণদের পথ দেখিয়েছে: নেহা বোরা সৌদি আরবে হুতি হামলা: শাহজালালে ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫৩৯৩ যাত্রী রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত চালক শাহরাস্তিতে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ঘোরাফেরা করায় ১৬ শিক্ষার্থী আটক

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন নিয়ে উদ্বেগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সম্প্রতি ‘ম্যাডরক্স’ পরিচয় দেওয়া একটি হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ডার্ক ফোরামস ডট আর ইউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে ৬০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এই ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ এর অর্থ হলো ৬০ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এখন হ্যাকারদের কবলে। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, এসব সিভি দেশের সবচেয়ে বড় চাকরির পোর্টাল বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে চুরি করা হয়েছে। তবে বিডিজবস কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তথ্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল কে দেখতে পারবেন বা পারবেন না, সে বিষয়েও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। হ্যাকারদের এই বিজ্ঞাপন এবং ৬০ লাখ মানুষের সিভি তাদের হাতে থাকার বিষয়টি একটি গুরুতর সাইবার অপরাধের ইঙ্গিত দেয়।

ইন্টারনেটের গঠন অনুযায়ী একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, সারফেস ওয়েব, যা গুগল সার্চ বা সাধারণ ব্রাউজারে পাওয়া যায়, যেমন ফেসবুক বা ইউটিউব। দ্বিতীয়ত, ডিপ ওয়েব, যা সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করা থাকে না, যেমন ই-মেইল ইনবক্স বা অফিসের ব্যক্তিগত ডেটাবেজ; এটি অবৈধ নয়। তৃতীয়ত, ডার্ক ওয়েব, যা ডিপ ওয়েবের একটি অংশ এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ালে রাখা হয়। ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয়।

ডার্ক ওয়েবের সব কিছুই যে অপরাধমূলক তা নয়; এটি সাংবাদিক বা হুইসেলব্লোয়ারদের বেনামি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তবে এর কুখ্যাতির মূল কারণ হলো এখানে মাদক, চুরি করা তথ্য, ভুয়া পরিচয়পত্র, জাল নথি এবং হ্যাকিং-সংক্রান্ত অবৈধ পণ্যের বাজার। এই সাইটগুলোতে বিক্রেতারা পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে ডার্ক ওয়েবের বাজারগুলোতে ব্যাপক প্রতারণাও হয়, তাই সব বিজ্ঞাপনই যে সত্য, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের সবচেয়ে পরিচিত প্রযুক্তি হলো ‘দ্য ওনিয়ন রাউটার’ বা ‘টর’। সাধারণ ওয়েবে আইএসপি ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা দেখতে পেলেও টর নেটওয়ার্কে তা সম্ভব হয় না। এখানে সংযোগ একাধিক রিলের মধ্য দিয়ে যায় এবং প্রতিটি স্তরে আলাদা এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়। অনেক ডার্ক ওয়েব সাইটের ঠিকানা ‘.onion’ দিয়ে শেষ হয়, যা সাধারণ ব্রাউজারে খোলা যায় না। টর প্রযুক্তি নিজেই অবৈধ নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও সেন্সরশিপ এড়াতে বৈধভাবেও ব্যবহৃত হয়।

বিডিজবসে জমা দেওয়া সিভি যদি কোনোভাবে চুরি বা ফাঁস হয়ে থাকে, তবে তা ফিশিং, স্ক্যাম বা পরিচয়-ভিত্তিক প্রতারণায় ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সিভিতে থাকা ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মস্থলের তথ্যের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা সাধারণ মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। বিডিজবস হয়তো তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু হ্যাকাররা তাদের সুরক্ষা ভেঙে তথ্য চুরি করেছে কি না, অথবা এটি কেবল একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন কি না—তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সম্প্রতি ‘ম্যাডরক্স’ পরিচয় দেওয়া একটি হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ডার্ক ফোরামস ডট আর ইউ’ নামের একটি ওয়েবসাইটে ৬০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিকের সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। এই ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কারণ এর অর্থ হলো ৬০ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এখন হ্যাকারদের কবলে। হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী, এসব সিভি দেশের সবচেয়ে বড় চাকরির পোর্টাল বিডিজবসের ডেটাবেজ থেকে চুরি করা হয়েছে। তবে বিডিজবস কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য ফাঁসের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তথ্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল কে দেখতে পারবেন বা পারবেন না, সে বিষয়েও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। হ্যাকারদের এই বিজ্ঞাপন এবং ৬০ লাখ মানুষের সিভি তাদের হাতে থাকার বিষয়টি একটি গুরুতর সাইবার অপরাধের ইঙ্গিত দেয়।

ইন্টারনেটের গঠন অনুযায়ী একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, সারফেস ওয়েব, যা গুগল সার্চ বা সাধারণ ব্রাউজারে পাওয়া যায়, যেমন ফেসবুক বা ইউটিউব। দ্বিতীয়ত, ডিপ ওয়েব, যা সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করা থাকে না, যেমন ই-মেইল ইনবক্স বা অফিসের ব্যক্তিগত ডেটাবেজ; এটি অবৈধ নয়। তৃতীয়ত, ডার্ক ওয়েব, যা ডিপ ওয়েবের একটি অংশ এবং এটি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়ালে রাখা হয়। ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয়।

ডার্ক ওয়েবের সব কিছুই যে অপরাধমূলক তা নয়; এটি সাংবাদিক বা হুইসেলব্লোয়ারদের বেনামি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। তবে এর কুখ্যাতির মূল কারণ হলো এখানে মাদক, চুরি করা তথ্য, ভুয়া পরিচয়পত্র, জাল নথি এবং হ্যাকিং-সংক্রান্ত অবৈধ পণ্যের বাজার। এই সাইটগুলোতে বিক্রেতারা পরিচয় গোপন রাখতে ছদ্মনাম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে। অনেক ক্ষেত্রে ডার্ক ওয়েবের বাজারগুলোতে ব্যাপক প্রতারণাও হয়, তাই সব বিজ্ঞাপনই যে সত্য, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের সবচেয়ে পরিচিত প্রযুক্তি হলো ‘দ্য ওনিয়ন রাউটার’ বা ‘টর’। সাধারণ ওয়েবে আইএসপি ব্যবহারকারীর আইপি ঠিকানা দেখতে পেলেও টর নেটওয়ার্কে তা সম্ভব হয় না। এখানে সংযোগ একাধিক রিলের মধ্য দিয়ে যায় এবং প্রতিটি স্তরে আলাদা এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়। অনেক ডার্ক ওয়েব সাইটের ঠিকানা ‘.onion’ দিয়ে শেষ হয়, যা সাধারণ ব্রাউজারে খোলা যায় না। টর প্রযুক্তি নিজেই অবৈধ নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা ও সেন্সরশিপ এড়াতে বৈধভাবেও ব্যবহৃত হয়।

বিডিজবসে জমা দেওয়া সিভি যদি কোনোভাবে চুরি বা ফাঁস হয়ে থাকে, তবে তা ফিশিং, স্ক্যাম বা পরিচয়-ভিত্তিক প্রতারণায় ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সিভিতে থাকা ফোন নম্বর, ই-মেইল, ঠিকানা, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কর্মস্থলের তথ্যের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা সাধারণ মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। বিডিজবস হয়তো তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু হ্যাকাররা তাদের সুরক্ষা ভেঙে তথ্য চুরি করেছে কি না, অথবা এটি কেবল একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন কি না—তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo