ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যালন ডি’অর ২০২৬: শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা ৫ ফুটবলার পুতিন ও শির সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, ইউক্রেন যুদ্ধও আলোচনায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাটবীজ উৎপাদনে উৎসাহ বাড়ছে কৃষকদের রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ধর্মের কারণে মানুষের মধ্যে যেন প্রতিবন্ধকতা না হয়: প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় অনুপস্থিত জামায়াত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বের সীমালঙ্ঘনে কঠোর প্রধানমন্ত্রী, পদ ছাড়লেন দুই নেতা রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী

দায়িত্বের সীমালঙ্ঘনে কঠোর প্রধানমন্ত্রী, পদ ছাড়লেন দুই নেতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আড়াই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পদত্যাগ সরকার ও দলের ভেতরে একটি কঠোর বার্তার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন কিংবা দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করে সরকার ও দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই বার্তা কেবল পদত্যাগকারী দুই নেতার জন্যই নয়, বরং মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীসহ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে। গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। যদিও ইশরাক দাবি করেছেন যে, সম্ভাব্য হামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল তাঁর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অভিযানে নামা সরকারকে বিব্রত করেছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গত রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন এবং গতকাল সোমবার ইশরাক জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এর আগে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়িয়ে পড়লে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হয়েছিল ফেরদৌসী আহমেদকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এই দুই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ব্যক্তির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় সরকার ও দল কোনোভাবেই বহন করবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দায়িত্বের সীমা মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি নিজে সাদামাটা জীবনযাপন ও বিনয়ী আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, যা দলের সবাইকে অনুসরণ করতে হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের ভাষ্যমতে, কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। যারা এই বার্তা বুঝতে ব্যর্থ হবেন, তাদের জন্য কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

দায়িত্বের সীমালঙ্ঘনে কঠোর প্রধানমন্ত্রী, পদ ছাড়লেন দুই নেতা

আপডেট সময় : ০১:১২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

আড়াই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পদত্যাগ সরকার ও দলের ভেতরে একটি কঠোর বার্তার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন কিংবা দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করে সরকার ও দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই বার্তা কেবল পদত্যাগকারী দুই নেতার জন্যই নয়, বরং মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীসহ সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে। গত শনিবার গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। যদিও ইশরাক দাবি করেছেন যে, সম্ভাব্য হামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল তাঁর এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অভিযানে নামা সরকারকে বিব্রত করেছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে গত রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন এবং গতকাল সোমবার ইশরাক জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এর আগে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়িয়ে পড়লে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে হয়েছিল ফেরদৌসী আহমেদকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এই দুই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ব্যক্তির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় সরকার ও দল কোনোভাবেই বহন করবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দায়িত্বের সীমা মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি নিজে সাদামাটা জীবনযাপন ও বিনয়ী আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, যা দলের সবাইকে অনুসরণ করতে হবে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের ভাষ্যমতে, কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা করতে গিয়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। যারা এই বার্তা বুঝতে ব্যর্থ হবেন, তাদের জন্য কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo