ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হৃদরোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সিপিআর ও সচেতনতা প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আফগানিস্তান ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে ৭ ফুট, বাড়ছে মহাবিপদের শঙ্কা মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ২ শ্রীনগরে এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে ৩ জনের মৃত্যু পরীমণি ও বুবলীকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ভাবনায় চয়নিকা চৌধুরী বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫ ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ কি ঝুঁকিতে? ভোলাহাটে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ

ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে ৭ ফুট, বাড়ছে মহাবিপদের শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট এবং অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে প্রতি বছর ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে ঢাকার কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল ও ভয়াবহ শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যা ভূতাত্ত্বিক ভাষায় 'কম্পাউন্ড কোন অব ডিপ্রেশন' নামে পরিচিত। এই শূন্যতা ঢাকার কেন্দ্র থেকে টঙ্গী, সাভার, ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থা চলতে থাকলে চাকচিক্যময় রাজধানী মারাত্মক ভূমিধস ও ভয়াবহ পানিশূন্যতার সম্মুখীন হতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দীর্ঘ ৬০ বছরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ২ মিটার বা প্রায় ৭ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। ১৯৭০ সালেও ঢাকা শহরে মাত্র ৬ মিটার বা প্রায় ২০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত, যা বর্তমানে ৭৩ মিটার বা ২৪০ ফুটের নিচে নেমে গেছে। পাউবোর পরিচালক ও ভূগর্ভস্থ পানি বিশেষজ্ঞ ড. আনোয়ার জাহিদ বলেন, 'ঢাকার মাটির নিচে একটি বড় বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে। মাটির নিচে হচ্ছে বলে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা বিপর্যয়ের ধারণাই পাচ্ছি।' তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ভূগর্ভস্থ পানি কমিশন’ গঠনের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরকে এই মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচাতে হলে কেবল নতুন পাম্প বসানো বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির ২৫ শতাংশ অপচয় রোধ করা এবং ‘বাংলাদেশ পানি আইন’ কঠোরভাবে কার্যকর করে ভূগর্ভস্থ পানির সুষম ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, নগরীর প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ঘনমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে হয়। এই বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে 'কম্পাউন্ড কোন অব ডিপ্রেশন' তৈরি হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রায় এক দশক আগে মেঘনা নদীর পানি শোধনাগার (ডিইএসডব্লিউএস) এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেইস-৩)-এর মতো বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে জমি অধিগ্রহণ, ঠিকাদার চূড়ান্তকরণ ও বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের অর্থছাড়ের দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। ২০১৩ সালের ডিইএসডব্লিউএস প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সায়েদাবাদ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশের মতো, আর এর ব্যয় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিকল্প ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পেরে ঢাকা ওয়াসা বাধ্য হয়ে পুনরায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এজন্য ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি নতুন জরুরি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে দৈনিক আরো ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, ৪৫০ সেট পাম্প মোটর সেট সরবরাহ ও স্থাপন, নতুন করে ৬২টি গভীর নলকূপ, ৪৫০টি ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্স সরবরাহ ও স্থাপন, ৪৮০ সেট পাম্প ডেলিভারি লাইন স্থাপন, ২৫০টি পাম্প ঘর, ২৮০ গভীর নলকূপ রি-জেনারেশন, ১২৪টি স্ক্যাডা সিস্টেম স্থাপন ও ৬০টি গভীর নলকূপ রি-হ্যাবিলিটেশন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রকল্প কার্যক্রমে থাকছে বৈদ্যুতিক কেবল সরবরাহ, কলাম পাইপ সরবরাহ, বাউন্ডারি ওয়ালসহ অন্যান্য নির্মাণ কার্যক্রম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা দৈনিক এদিনকে জানান, দেশের অধিকাংশ এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা এলাকার। ঢাকার মাটিরও প্রায় একই অবস্থা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমলেও নগরীর মানুষ বেড়েই চলছে। তিনি বলেন, মেঘনা নদী থেকে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহে একাধিক প্রকল্প চলমান থাকলেও সেগুলো শেষ হতে আরো কয়েক বছর লাগবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান পদ্ধতিতে পানি সরবরাহের জন্য এই প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে, যা ভূগর্ভস্থ স্তরে আরো চাপ সৃষ্টি করবে।

তবে ওয়াসার এই নতুন উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী’ ও ‘বুমেরাং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পানি ও নগর বিশেষজ্ঞরা। এ মেগা প্রকল্প নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তারা। নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান এদিনকে বলেন, বড় প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ না করে নতুন করে গভীর নলকূপ বসানোর এই উদ্যোগ আত্মঘাতী। এতে ব্যক্তিপর্যায়ে অবৈধভাবে পানি তোলার সরকারি স্বীকৃতি মিলে যাচ্ছে, যা মাটির নিচের পরিবেশকে আরও বিপন্ন করবে। বর্তমানে ঢাকার প্রায় ৬৫ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। এ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ আরও বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন।

এদিকে সারা দেশে ১ হাজার ২৭২টি পর্যবেক্ষণ কূপের মাধ্যমে ৬০ বছর ধরে পানির পরিমাণ ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ২ মিটার বা প্রায় ৭ ফুট করে নেমে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে ৭ ফুট, বাড়ছে মহাবিপদের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট এবং অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে প্রতি বছর ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে ঢাকার কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল ও ভয়াবহ শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, যা ভূতাত্ত্বিক ভাষায় 'কম্পাউন্ড কোন অব ডিপ্রেশন' নামে পরিচিত। এই শূন্যতা ঢাকার কেন্দ্র থেকে টঙ্গী, সাভার, ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে এই অবস্থা চলতে থাকলে চাকচিক্যময় রাজধানী মারাত্মক ভূমিধস ও ভয়াবহ পানিশূন্যতার সম্মুখীন হতে পারে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দীর্ঘ ৬০ বছরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে ২ মিটার বা প্রায় ৭ ফুট করে নিচে নেমে যাচ্ছে। ১৯৭০ সালেও ঢাকা শহরে মাত্র ৬ মিটার বা প্রায় ২০ ফুট গভীরেই পানি পাওয়া যেত, যা বর্তমানে ৭৩ মিটার বা ২৪০ ফুটের নিচে নেমে গেছে। পাউবোর পরিচালক ও ভূগর্ভস্থ পানি বিশেষজ্ঞ ড. আনোয়ার জাহিদ বলেন, 'ঢাকার মাটির নিচে একটি বড় বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে। মাটির নিচে হচ্ছে বলে আমরা সেটা দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা বিপর্যয়ের ধারণাই পাচ্ছি।' তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ভূগর্ভস্থ পানি কমিশন’ গঠনের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরকে এই মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচাতে হলে কেবল নতুন পাম্প বসানো বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির ২৫ শতাংশ অপচয় রোধ করা এবং ‘বাংলাদেশ পানি আইন’ কঠোরভাবে কার্যকর করে ভূগর্ভস্থ পানির সুষম ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, নগরীর প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ঘনমিটার ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে হয়। এই বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে 'কম্পাউন্ড কোন অব ডিপ্রেশন' তৈরি হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে প্রায় এক দশক আগে মেঘনা নদীর পানি শোধনাগার (ডিইএসডব্লিউএস) এবং সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেইস-৩)-এর মতো বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে জমি অধিগ্রহণ, ঠিকাদার চূড়ান্তকরণ ও বৈদেশিক ঋণ বা অনুদানের অর্থছাড়ের দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। ২০১৩ সালের ডিইএসডব্লিউএস প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সায়েদাবাদ প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশের মতো, আর এর ব্যয় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিকল্প ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পেরে ঢাকা ওয়াসা বাধ্য হয়ে পুনরায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এজন্য ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি নতুন জরুরি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূগর্ভ থেকে দৈনিক আরো ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একনেকে অনুমোদন পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, ৪৫০ সেট পাম্প মোটর সেট সরবরাহ ও স্থাপন, নতুন করে ৬২টি গভীর নলকূপ, ৪৫০টি ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্স সরবরাহ ও স্থাপন, ৪৮০ সেট পাম্প ডেলিভারি লাইন স্থাপন, ২৫০টি পাম্প ঘর, ২৮০ গভীর নলকূপ রি-জেনারেশন, ১২৪টি স্ক্যাডা সিস্টেম স্থাপন ও ৬০টি গভীর নলকূপ রি-হ্যাবিলিটেশন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রকল্প কার্যক্রমে থাকছে বৈদ্যুতিক কেবল সরবরাহ, কলাম পাইপ সরবরাহ, বাউন্ডারি ওয়ালসহ অন্যান্য নির্মাণ কার্যক্রম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা দৈনিক এদিনকে জানান, দেশের অধিকাংশ এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা এলাকার। ঢাকার মাটিরও প্রায় একই অবস্থা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমলেও নগরীর মানুষ বেড়েই চলছে। তিনি বলেন, মেঘনা নদী থেকে ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহে একাধিক প্রকল্প চলমান থাকলেও সেগুলো শেষ হতে আরো কয়েক বছর লাগবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যমান পদ্ধতিতে পানি সরবরাহের জন্য এই প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে, যা ভূগর্ভস্থ স্তরে আরো চাপ সৃষ্টি করবে।

তবে ওয়াসার এই নতুন উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী’ ও ‘বুমেরাং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পানি ও নগর বিশেষজ্ঞরা। এ মেগা প্রকল্প নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তারা। নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান এদিনকে বলেন, বড় প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ না করে নতুন করে গভীর নলকূপ বসানোর এই উদ্যোগ আত্মঘাতী। এতে ব্যক্তিপর্যায়ে অবৈধভাবে পানি তোলার সরকারি স্বীকৃতি মিলে যাচ্ছে, যা মাটির নিচের পরিবেশকে আরও বিপন্ন করবে। বর্তমানে ঢাকার প্রায় ৬৫ শতাংশ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। এ ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ আরও বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন।

এদিকে সারা দেশে ১ হাজার ২৭২টি পর্যবেক্ষণ কূপের মাধ্যমে ৬০ বছর ধরে পানির পরিমাণ ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছর ২ মিটার বা প্রায় ৭ ফুট করে নেমে যাচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin