যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, সুদের হার ও নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ
- আপডেট সময় : ১১:৪২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মূল্যস্ফীতির হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বুধবার দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগস্টে ছিল ৩.৪ শতাংশ। এছাড়া মাসিক ভিত্তিতে পণ্যের দাম বেড়েছে ০.৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এ মাসের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে আগামী ৩রা নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এই মূল্যস্ফীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ৯.১ শতাংশ বেড়েছে, যা মাসিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি কারণ। এক বছর আগের তুলনায় পেট্রলের দাম ৩৪.২ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪.৩৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.২৯ ডলার। দ্য সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের অর্থনীতিবিদ কাইল মুরের মতে, ইরানে চলমান যুদ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর ফলে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ছে। গ্যাসবাডির প্যাট্রিক ডিহান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৫৮ দিন গ্যালনপ্রতি পেট্রলের দাম ৪ ডলারের উপরে রয়েছে, যা আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি।
আবাসন ব্যয়ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলেছে; আগস্টে ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধির পর সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ০.৪ শতাংশ হয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক দাম অপরিবর্তিত থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কেনা খাদ্যের দাম ০.১ শতাংশ কমলেও রেস্তোরাঁর খাবারের দাম ০.২ শতাংশ বেড়েছে। মুদি দোকানে মুরগির মাংসের দাম ০.৭ শতাংশ, ফল ও সবজির দাম ০.৫ শতাংশ এবং জুসের দাম ১.১ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে দুধের দাম ২.১ শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম ০.৯ শতাংশ কমেছে। এছাড়া এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগের প্রভাবে কম্পিউটার সফটওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম এক বছরে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্যারাবেলাম ইনভেস্টমেন্টের রামি ক্যাসিস জানিয়েছেন।
ফেডারেল রিজার্ভ এখন সুদের হার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, সুদের হার ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ৫২.৯ শতাংশ, আর ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৪.২৫ শতাংশে নেওয়ার সম্ভাবনা ৪৭.১ শতাংশ। এদিকে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ আমেরিকান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করছেন। মূল্যস্ফীতির এই সংবাদের পর নাসডাক সূচক ০.৮ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৬ শতাংশ কমেছে। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার ও জ্বালানি ব্যয় এখন মার্কিন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



























