ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউনূসকে হেনস্তা কেবল শুরু, মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতার টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৪ ইউনিট দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বিশেষ অবদান, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেলেন মিরসরাইয়ের উম্মে হাবিবা টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১২ ইউনিট খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস মহাশূন্যে পৃথিবীর চেয়েও বাসযোগ্য গ্রহ থাকতে পারে, বিজ্ঞানীদের গবেষণা ইরানের বিরুদ্ধে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, নতুন হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের বিহারের গঙ্গায় নৌকাডুবি: শিশুসহ নিহত ১৩ হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইলের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন সৌদি যুবরাজ সৌদি আরামকোর দাহরান কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আগুন

এক ইমেইলে ফাঁস গোপন নথি, ১০ বছর পর বিপাকে ম্যানচেস্টার সিটি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় ক্লাবের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পরিচয়ে একটি আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ ইমেইল আসে। ওই ইমেইলে আর্থিক বিধি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের লিংক ছিল। কর্মকর্তাটি সেই লিংকে ক্লিক করে ফাইল ডাউনলোড করতেই ক্লাবের সার্ভারে ফিশিং হামলার পথ তৈরি হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে ছিলেন পর্তুগিজ হ্যাকার ও অ্যাক্টিভিস্ট রুই পিন্টো। তিনি ওই লিংকের মাধ্যমে সিটির সার্ভারে ঢুকে হাজার হাজার ইমেইল ও গোপন নথি হাতিয়ে নেন। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ক্লাবটির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত শুরু হয়।

অভিযোগ ছিল যে, ম্যানচেস্টার সিটি উয়েফা ও প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক নিয়ম এড়াতে পরিকল্পিতভাবে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করেছে। ২০২০ সালে উয়েফা সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করলেও পরে সিএএস-এর আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রিমিয়ার লীগের তদন্ত অব্যাহত থাকে।

প্রায় ১০ বছর পর, একটি স্বাধীন প্যানেল ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগে ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। প্যানেলের তথ্যানুযায়ী, সিটি ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি গোপন অর্থায়ন করেছে। এছাড়া তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভুয়া ইমেজ রাইটস চুক্তি, কর্মীদের প্রকৃত বেতন গোপন করা এবং তদন্তে অসহযোগিতার মতো অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

প্রিমিয়ার লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নয় বছরে বাণিজ্যিক আয় হিসেবে ৯৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের হিসাব দেখালেও এর মাত্র ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রকৃত স্পনসরদের কাছ থেকে এসেছিল। বাকি ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ড মালিকপক্ষের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে ক্লাবে প্রবেশ করানো হয়। এছাড়া ২০১২-১৩ মৌসুমে খেলোয়াড় ও কোচের বোনাস প্রদানের জন্য স্পনসর চুক্তি পরিবর্তন এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের পিএসআর সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।

ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্লাবটির দাবি, রায়ে আইন ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল রয়েছে। শুক্রবার ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে। এখন শাস্তি নির্ধারণের জন্য পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

এক ইমেইলে ফাঁস গোপন নথি, ১০ বছর পর বিপাকে ম্যানচেস্টার সিটি

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ম্যানচেস্টার সিটির বর্তমান আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় ক্লাবের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার পরিচয়ে একটি আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ ইমেইল আসে। ওই ইমেইলে আর্থিক বিধি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের লিংক ছিল। কর্মকর্তাটি সেই লিংকে ক্লিক করে ফাইল ডাউনলোড করতেই ক্লাবের সার্ভারে ফিশিং হামলার পথ তৈরি হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে ছিলেন পর্তুগিজ হ্যাকার ও অ্যাক্টিভিস্ট রুই পিন্টো। তিনি ওই লিংকের মাধ্যমে সিটির সার্ভারে ঢুকে হাজার হাজার ইমেইল ও গোপন নথি হাতিয়ে নেন। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ক্লাবটির আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত শুরু হয়।

অভিযোগ ছিল যে, ম্যানচেস্টার সিটি উয়েফা ও প্রিমিয়ার লীগের আর্থিক নিয়ম এড়াতে পরিকল্পিতভাবে অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন করেছে। ২০২০ সালে উয়েফা সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করলেও পরে সিএএস-এর আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে যায়। তবে প্রিমিয়ার লীগের তদন্ত অব্যাহত থাকে।

প্রায় ১০ বছর পর, একটি স্বাধীন প্যানেল ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগে ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। প্যানেলের তথ্যানুযায়ী, সিটি ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি গোপন অর্থায়ন করেছে। এছাড়া তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভুয়া ইমেজ রাইটস চুক্তি, কর্মীদের প্রকৃত বেতন গোপন করা এবং তদন্তে অসহযোগিতার মতো অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

প্রিমিয়ার লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নয় বছরে বাণিজ্যিক আয় হিসেবে ৯৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের হিসাব দেখালেও এর মাত্র ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রকৃত স্পনসরদের কাছ থেকে এসেছিল। বাকি ৮৩০ মিলিয়ন পাউন্ড মালিকপক্ষের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে ক্লাবে প্রবেশ করানো হয়। এছাড়া ২০১২-১৩ মৌসুমে খেলোয়াড় ও কোচের বোনাস প্রদানের জন্য স্পনসর চুক্তি পরিবর্তন এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমে প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের পিএসআর সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।

ম্যানচেস্টার সিটি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্লাবটির দাবি, রায়ে আইন ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল রয়েছে। শুক্রবার ক্লাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে। এখন শাস্তি নির্ধারণের জন্য পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin