ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টিআইবি: ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার দিল্লিতে জাতীয় পতাকা মিছিলের আগে অভিজিৎ ও নেহা আটক দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার গোয়ালঘর নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইয়ের পিটুনিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু, গাইবান্ধায় চাঞ্চল্য ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা আটক ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি: এক দিনে ৮০ ওভারের লড়াই শ্রীপুরে পরিত্যক্ত বোতল বিস্ফোরণে ব্যবসায়ীর হাতের আঙুল ঝলসে গেল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু কর্মসূচি বন্ধে পুলিশি নোটিশ, অভিজিৎ দিপকের সাফ কথা ‘ফাঁসি দিন’

চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক সেমিনারে অংশ নিলেন বিএনপির আপেল মাহমুদ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চীনে অনুষ্ঠিত ৩০টি দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের এক বিশেষ সেমিনার ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেলের জাতীয় সমন্বয়কারী ও টিম লিডার (ডিজিটাল) আপেল মাহমুদ। গত ৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যম সহযোগিতা বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূলত রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা, বিভিন্ন দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আপেল মাহমুদ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উপমন্ত্রী সুন হাই ইয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে আপেল মাহমুদ জানান, সিপিসি উপমন্ত্রী সুন হাই ইয়ান সেমিনারে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের কাজ ও ভূমিকা সম্পর্কে আগে থেকেই বিস্তারিত অবগত ছিলেন, যা তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। আয়োজকদের এমন আন্তরিক প্রস্তুতি ও মনোযোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

সেমিনারে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মতো নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে সংবাদমাধ্যমে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ দেশের গণমাধ্যমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তথ্য বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

সেমিনারের পাশাপাশি প্রতিনিধি দলটি চীনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, আধুনিক শহর ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সফরের শুরুতে তারা রাজধানী বেইজিংয়ের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। এরপর ইয়িচুয়াং এলাকায় গিয়ে সেখানকার শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও নগর উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে তারা ইয়ানআন শহরে চীনা বিপ্লব ও কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধি দলটি ইয়াংজিয়াহে গ্রামও পরিদর্শন করে, যা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গ্রামীণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত। সেখানে তারা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ উন্নয়নের নানা উদ্যোগের কথা জানতে পারেন। এছাড়া শানসি প্রদেশের শি’আন শহরে বিশ্বখ্যাত টেরাকোটা আর্মি জাদুঘর, ট্যাং প্যারাডাইস এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি (BYD) পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত গবেষণা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করেন।

এরপর প্রতিনিধি দলটি ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ ও ইউইউ শহর সফর করে। হাংঝৌতে চীনা গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থনীতি ও প্রযুক্তি নিয়ে মতবিনিময় হয় এবং ইউইউতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের সংযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া তারা পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার নিদর্শনবাহী লিয়াংঝু প্রাচীন শহর ঘুরে দেখেন এবং লিজু গ্রামে স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা চিত্র প্রত্যক্ষ করেন।

সফর শেষে আপেল মাহমুদ তার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেবল বই বা গণমাধ্যমে পড়া চীনের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সরাসরি মাঠে গিয়ে দেখার সুযোগ হয়েছে। ঐতিহাসিক স্থান থেকে শুরু করে আধুনিক শিল্পকারখানা, বাজার, গ্রাম ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার ফলে চীনের ইতিহাস, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে এক বহুমাত্রিক ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি ৩০টি দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, এটি পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক সেমিনারে অংশ নিলেন বিএনপির আপেল মাহমুদ

আপডেট সময় : ১১:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনে অনুষ্ঠিত ৩০টি দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের এক বিশেষ সেমিনার ও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেলের জাতীয় সমন্বয়কারী ও টিম লিডার (ডিজিটাল) আপেল মাহমুদ। গত ৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যম সহযোগিতা বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূলত রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা, বিভিন্ন দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আপেল মাহমুদ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের উপমন্ত্রী সুন হাই ইয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যকার যোগাযোগ বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে আপেল মাহমুদ জানান, সিপিসি উপমন্ত্রী সুন হাই ইয়ান সেমিনারে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের কাজ ও ভূমিকা সম্পর্কে আগে থেকেই বিস্তারিত অবগত ছিলেন, যা তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। আয়োজকদের এমন আন্তরিক প্রস্তুতি ও মনোযোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিএনপি ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা বাংলাদেশ ও চীনের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

সেমিনারে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মতো নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে সংবাদমাধ্যমে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ দেশের গণমাধ্যমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তথ্য বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

সেমিনারের পাশাপাশি প্রতিনিধি দলটি চীনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা, আধুনিক শহর ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সফরের শুরুতে তারা রাজধানী বেইজিংয়ের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। এরপর ইয়িচুয়াং এলাকায় গিয়ে সেখানকার শিল্প, উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও নগর উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে তারা ইয়ানআন শহরে চীনা বিপ্লব ও কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধি দলটি ইয়াংজিয়াহে গ্রামও পরিদর্শন করে, যা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গ্রামীণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত। সেখানে তারা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ উন্নয়নের নানা উদ্যোগের কথা জানতে পারেন। এছাড়া শানসি প্রদেশের শি’আন শহরে বিশ্বখ্যাত টেরাকোটা আর্মি জাদুঘর, ট্যাং প্যারাডাইস এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি (BYD) পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত গবেষণা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করেন।

এরপর প্রতিনিধি দলটি ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ ও ইউইউ শহর সফর করে। হাংঝৌতে চীনা গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থনীতি ও প্রযুক্তি নিয়ে মতবিনিময় হয় এবং ইউইউতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের সংযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া তারা পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার নিদর্শনবাহী লিয়াংঝু প্রাচীন শহর ঘুরে দেখেন এবং লিজু গ্রামে স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা চিত্র প্রত্যক্ষ করেন।

সফর শেষে আপেল মাহমুদ তার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেবল বই বা গণমাধ্যমে পড়া চীনের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সরাসরি মাঠে গিয়ে দেখার সুযোগ হয়েছে। ঐতিহাসিক স্থান থেকে শুরু করে আধুনিক শিল্পকারখানা, বাজার, গ্রাম ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার ফলে চীনের ইতিহাস, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে এক বহুমাত্রিক ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি ৩০টি দেশের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, এটি পারস্পরিক সংলাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh