ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ আইন প্রণয়নে বাধা দিতেই বিরোধী দলের পরিকল্পিত ওয়াকআউট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থী ফাতেমার স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাগই ওনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে: আবদুল্লাহ তাহের রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজে এসএসসি ২০২৬ উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা রাশিয়ার গ্যাস কমপ্লেক্সে বিস্ফোরণ: নিহত ১ বাংলাদেশি কানাডায় বাংলাদেশি সিনেমায় জুটি বাঁধছেন জায়েদ খান ও অধরা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া ঢাকার মঞ্চ মাতাতে আসছেন সেই ভাইরাল গানের ওটিলিয়া

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কিছুই অর্জিত হবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৭ আগস্ট) তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেন।

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, এই পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে যুদ্ধ করেও তারা সফল হতে পারেনি। আগের মতোই সব ধরনের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে ইরান তার দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানকে ঘিরে সংঘাত ছয় মাসে গড়িয়েছে এবং বর্তমানে এক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার মধ্যে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন দেশটির বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ বজায় রেখেছে।

যুদ্ধের প্রভাবে রাজনৈতিক চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এসব পদক্ষেপে সহযোগিতা না করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার দাবি করেন, ইরানের সামরিক কারখানা ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান ও নৌপরিবহণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তবে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতের চাপ মোকাবিলায় তাদের দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকার দাবি করলেও সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, তাঁর কোনো সময়সীমা নেই এবং তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সংকট নিরসনে ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর ঘোষণা আসতে পারে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলে পরবর্তীতে স্থায়ী নৌপথ নিয়ে আলোচনার জন্য ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে রেভল্যুশনারি গার্ডসের অভিযোগ, রাজস্ব ভাগাভাগিসংক্রান্ত এই সমঝোতা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কিছুই অর্জিত হবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

আপডেট সময় : ০৫:১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার (২৭ আগস্ট) তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেন।

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে বলেন, এই পর্যায়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কিছু অর্জন করতে পারবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে যুদ্ধ করেও তারা সফল হতে পারেনি। আগের মতোই সব ধরনের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে ইরান তার দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানকে ঘিরে সংঘাত ছয় মাসে গড়িয়েছে এবং বর্তমানে এক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার মধ্যে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন দেশটির বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ বজায় রেখেছে।

যুদ্ধের প্রভাবে রাজনৈতিক চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এসব পদক্ষেপে সহযোগিতা না করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার দাবি করেন, ইরানের সামরিক কারখানা ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি জানান, নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান ও নৌপরিবহণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তবে ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতের চাপ মোকাবিলায় তাদের দুই বছরের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকার দাবি করলেও সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে গেছে।

আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, তাঁর কোনো সময়সীমা নেই এবং তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। সংকট নিরসনে ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, শিগগিরই একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর ঘোষণা আসতে পারে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলে পরবর্তীতে স্থায়ী নৌপথ নিয়ে আলোচনার জন্য ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে রেভল্যুশনারি গার্ডসের অভিযোগ, রাজস্ব ভাগাভাগিসংক্রান্ত এই সমঝোতা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বাধা সৃষ্টি করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din