সরকারি ছুটির বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ‘অফ ডে’ থাকবে না: ত্রাণমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৪০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ১০ (12-09-2026, 00:10)
সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘অফ ডে’ বা অতিরিক্ত ছুটি কাটানোর কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা স্কুল-কলেজ চলাকালীন বিকেল চারটার আগে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারবেন না। শিক্ষকদের উপস্থিতি ঠিক থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
লালমনিরহাট জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সদর উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির সচেতনতামূলক প্রচার ও উপকরণ বিতরণ উপলক্ষে শুক্রবার রাত আটটায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষাদানের বাইরে শিক্ষকদের অন্য দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্লাস শেষ হওয়ার পর যেসব শিক্ষকের পাঠদানের আর কোনো কাজ থাকবে না, তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মঞ্চে উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সরকারি ছুটির বাইরে বিভিন্ন অর্পিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। শিক্ষকদেরও একইভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
অনেক সময় দুপুরের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা যায় শিক্ষকরা না থাকার কারণেই শিক্ষার্থীরা চলে যায়। শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে প্রতিষ্ঠানে থাকবে? চাকরিতে যোগদানের সময় সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত ছুটি ভোগের কোনো বিধান ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে আমরা একটি অনিয়মের দিকে ধাবিত হচ্ছি, যা পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ত্রাণমন্ত্রী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান। একই সাথে শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি চালুর পর থেকে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমন্বিতভাবে কাজ করলে এই উদ্যোগ আরও সফল হবে। তিনি চান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসুক।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিক। এছাড়াও জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই আয়োজনে অংশ নেন।



























