ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টিআইবি: ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার দিল্লিতে জাতীয় পতাকা মিছিলের আগে অভিজিৎ ও নেহা আটক দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার গোয়ালঘর নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইয়ের পিটুনিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু, গাইবান্ধায় চাঞ্চল্য ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা আটক ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি: এক দিনে ৮০ ওভারের লড়াই শ্রীপুরে পরিত্যক্ত বোতল বিস্ফোরণে ব্যবসায়ীর হাতের আঙুল ঝলসে গেল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু কর্মসূচি বন্ধে পুলিশি নোটিশ, অভিজিৎ দিপকের সাফ কথা ‘ফাঁসি দিন’

নিখোঁজ সন্তানদের সন্ধানে আকুতি, স্বজনদের চোখের জলে ভারী ডিআরইউ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিখোঁজ সন্তানদের খুঁজে পাওয়ার আকুল আবেদন নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে জড়ো হয়েছিলেন ৪০টি পরিবারের সদস্যরা। ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বজনদের কান্না আর দীর্ঘশ্বাসে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে ও জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিটি বাবা-মায়ের হাতে ছিল হারিয়ে যাওয়া সন্তানের ছবিসহ প্ল্যাকার্ড। কেউ ৩৭০ দিন, কেউ ৮ দিন আবার কেউ ৬,৫৫৩ দিন ধরে সন্তানদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

নিখোঁজ শিশু রূপা আক্তারের মা স্বপ্না আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আপনারা কি কেউ দেখেছেন আমার মেয়েকে? এক বছর ধরে আমার মেয়ে নিখোঁজ। খুঁজে পাচ্ছি না। আপনারা আমার সন্তানকে খুঁজে দিন। গ্রামে আমার একটা ভিটেবাড়ি আছে। কেউ আমার মেয়েকে এনে দিতে পারলে পুরস্কার হিসেবে ওই ভিটেবাড়ি দিয়ে দেব।' গত বছরের ২৯ আগস্ট পল্লবীতে বাসার সামনে থেকে তিন বছর বয়সী রূপা নিখোঁজ হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণকে রূপাকে নিয়ে যেতে দেখা গেলেও এক বছরেও তার সন্ধান মেলেনি। স্বপ্না আক্তার বলেন, তিনি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তা জানেন না, তবুও এক মুহূর্তের জন্য আশা ছাড়েননি।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানান। রাজবাড়ীর পাংশার নজরুল ইসলামের ছেলে তামিম গত বছরের ২০ মে স্কুল থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। ছেলের সন্ধানে তিনি কবিরাজ থেকে শুরু করে সব ধরনের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'আমার যা কিছু আছে সব দিয়ে দেব। আমি আমার সন্তানকে চাই।' এছাড়া নবাবগঞ্জের তহুরা ইসলাম তাঁর দুই বছরের সন্তান তোহা আদনানকে এক মাস ২০ দিন ধরে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান। চম্পা বেগম আড়াই বছর আগে হারিয়ে যাওয়া যমজ বোন সামিয়ার সন্ধানে টিকটকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরে গিয়েও পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন। এর মধ্যে খাদিজা ১ হাজার ৯৭৪ দিন ও গনেশ ৩৩৩ দিন ধরে নিখোঁজ। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে গিয়েও মেয়ে মানতাশাকে (৮) উদ্ধার করতে পারেননি দিনাজপুরের মনিরুজ্জামান মনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জন এখনো নিখোঁজ। এর আগের বছরগুলোতেও জিডির সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য—২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি।

জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান জানান, শিশু মুনতাহার ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে 'অ্যাম্বার অ্যালার্ট' ব্যবস্থা চালুর দাবি ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি সিআইডির সহযোগিতায় 'মুন অ্যালার্ট' ও টোল হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার, অমীমাংসিত ঘটনার পুনঃতদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার দাবি জানানো হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নিখোঁজ সন্তানদের সন্ধানে আকুতি, স্বজনদের চোখের জলে ভারী ডিআরইউ

আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজ সন্তানদের খুঁজে পাওয়ার আকুল আবেদন নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে জড়ো হয়েছিলেন ৪০টি পরিবারের সদস্যরা। ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শিরোনামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বজনদের কান্না আর দীর্ঘশ্বাসে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে ও জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিটি বাবা-মায়ের হাতে ছিল হারিয়ে যাওয়া সন্তানের ছবিসহ প্ল্যাকার্ড। কেউ ৩৭০ দিন, কেউ ৮ দিন আবার কেউ ৬,৫৫৩ দিন ধরে সন্তানদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

নিখোঁজ শিশু রূপা আক্তারের মা স্বপ্না আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আপনারা কি কেউ দেখেছেন আমার মেয়েকে? এক বছর ধরে আমার মেয়ে নিখোঁজ। খুঁজে পাচ্ছি না। আপনারা আমার সন্তানকে খুঁজে দিন। গ্রামে আমার একটা ভিটেবাড়ি আছে। কেউ আমার মেয়েকে এনে দিতে পারলে পুরস্কার হিসেবে ওই ভিটেবাড়ি দিয়ে দেব।' গত বছরের ২৯ আগস্ট পল্লবীতে বাসার সামনে থেকে তিন বছর বয়সী রূপা নিখোঁজ হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এক তরুণকে রূপাকে নিয়ে যেতে দেখা গেলেও এক বছরেও তার সন্ধান মেলেনি। স্বপ্না আক্তার বলেন, তিনি বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তা জানেন না, তবুও এক মুহূর্তের জন্য আশা ছাড়েননি।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানান। রাজবাড়ীর পাংশার নজরুল ইসলামের ছেলে তামিম গত বছরের ২০ মে স্কুল থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। ছেলের সন্ধানে তিনি কবিরাজ থেকে শুরু করে সব ধরনের চেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেন, 'আমার যা কিছু আছে সব দিয়ে দেব। আমি আমার সন্তানকে চাই।' এছাড়া নবাবগঞ্জের তহুরা ইসলাম তাঁর দুই বছরের সন্তান তোহা আদনানকে এক মাস ২০ দিন ধরে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান। চম্পা বেগম আড়াই বছর আগে হারিয়ে যাওয়া যমজ বোন সামিয়ার সন্ধানে টিকটকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোরে গিয়েও পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ করেন। এর মধ্যে খাদিজা ১ হাজার ৯৭৪ দিন ও গনেশ ৩৩৩ দিন ধরে নিখোঁজ। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে গিয়েও মেয়ে মানতাশাকে (৮) উদ্ধার করতে পারেননি দিনাজপুরের মনিরুজ্জামান মনি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জন এখনো নিখোঁজ। এর আগের বছরগুলোতেও জিডির সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য—২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি।

জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান জানান, শিশু মুনতাহার ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে 'অ্যাম্বার অ্যালার্ট' ব্যবস্থা চালুর দাবি ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি সিআইডির সহযোগিতায় 'মুন অ্যালার্ট' ও টোল হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর পাইলট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার, অমীমাংসিত ঘটনার পুনঃতদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার দাবি জানানো হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo