ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায় মানুষ: কুমিল্লায় জামায়াতের আমির

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারেনি। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কুমিল্লা বিভাগ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দাবি জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সালে সিলেট বিভাগ হওয়ার সময় থেকেই কুমিল্লা বিভাগ করার দাবি রয়েছে, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর কোনো গড়িমসি না করে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীও বিভাগ পাওয়ার দাবিদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো! চাঁদাবাজ নাই! আছে?’ তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া তিনি জানান, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে লংমার্চ যাবে এবং এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। দাবি আদায়ের জন্য ওই কর্মসূচিতেও কুমিল্লার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারের মন্ত্রীদের পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। গত ছয় মাসে সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সর্বত্র দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না এবং মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে যে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হবে। তিনি দাবি করেন, সরকার কিছু করুক বা না করুক, নিজের ভারেই তারা পড়ে যাবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকার জনগণের রায় কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে জনতার মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। তিনি বলেন, এই মিছিল বাড়তে বাড়তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত গণজোয়ার তৈরি হবে এবং সেই গণস্রোতে সরকার ভেসে যেতে বাধ্য হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে সরকারের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো হবে।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভা পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবুর রহমান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পাশে আয়োজিত এই পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেওয়ায় যান চলাচলে ধীর গতি ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এছাড়া চট্টগ্রামমুখী লেনে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর চলাচল করায় থেমে থেমে যানজট ও ধীর গতি দেখা দেয়। এর আগে সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়, যা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায় মানুষ: কুমিল্লায় জামায়াতের আমির

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায়। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করতে পারেনি। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কুমিল্লা বিভাগ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দাবি জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সালে সিলেট বিভাগ হওয়ার সময় থেকেই কুমিল্লা বিভাগ করার দাবি রয়েছে, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর কোনো গড়িমসি না করে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীও বিভাগ পাওয়ার দাবিদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো! চাঁদাবাজ নাই! আছে?’ তিনি এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া তিনি জানান, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে লংমার্চ যাবে এবং এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। দাবি আদায়ের জন্য ওই কর্মসূচিতেও কুমিল্লার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারের মন্ত্রীদের পরিবার ও স্বজনরা বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। গত ছয় মাসে সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সর্বত্র দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষ বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না এবং মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে যে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হবে। তিনি দাবি করেন, সরকার কিছু করুক বা না করুক, নিজের ভারেই তারা পড়ে যাবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকার জনগণের রায় কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে জনতার মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। তিনি বলেন, এই মিছিল বাড়তে বাড়তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত গণজোয়ার তৈরি হবে এবং সেই গণস্রোতে সরকার ভেসে যেতে বাধ্য হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে সরকারের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো হবে।

পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভা পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবুর রহমান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পাশে আয়োজিত এই পথসভায় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেওয়ায় যান চলাচলে ধীর গতি ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এছাড়া চট্টগ্রামমুখী লেনে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর চলাচল করায় থেমে থেমে যানজট ও ধীর গতি দেখা দেয়। এর আগে সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে এই লংমার্চ শুরু হয়, যা চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo