রংপুরে সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৫:১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় আদালত রায় ঘোষণা করেছে। বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এই রায় প্রদান করেন। রায়ে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তবে মামলার মূল অভিযুক্ত এবং চিহ্নিত মাদককারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুর শহরের একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা 'যুগের আলো' অফিসে যাওয়ার পর থেকে সাংবাদিক উৎস রহমান নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১০ বছর নয় মাসের বেশি সময় ধরে বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। পুলিশ এ মামলায় ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিলেও আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিল।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ হতাশা প্রকাশ করেছেন। আইনজীবীদের অভিযোগ, জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। মামলার মূলহোতা হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করা হলেও আদালত তাকে খালাস দিয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে তারা মনে করছেন। বাদী নুর জাহান বেগম জানান, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন এবং ন্যায়বিচার পেতে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যার এই রায় নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রংপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুব রহমান হাবু বলেন, এই রায় সন্তোষজনক নয়। মূল মাস্টারমাইন্ড খালাস পাওয়া এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পলাতক থাকাটা বিস্ময়কর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উচ্চ আদালতে আপিল করলে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাবে।



























