ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিল্লিতে জাতীয় পতাকা মিছিলের আগে অভিজিৎ ও নেহা আটক দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার গোয়ালঘর নিয়ে বিরোধ: বড় ভাইয়ের পিটুনিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু, গাইবান্ধায় চাঞ্চল্য ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগে অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা আটক ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাট টেস্ট টুয়েন্টি: এক দিনে ৮০ ওভারের লড়াই শ্রীপুরে পরিত্যক্ত বোতল বিস্ফোরণে ব্যবসায়ীর হাতের আঙুল ঝলসে গেল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যু কর্মসূচি বন্ধে পুলিশি নোটিশ, অভিজিৎ দিপকের সাফ কথা ‘ফাঁসি দিন’ ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমবে, আশা বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের

দিল্লিতে মোদির কাছে ঢাকার ‘সহায়ক পরিবেশের’ বার্তা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে ঢাকার বার্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দিল্লিতে গিয়ে তিনি এই বার্তা হস্তান্তর করেন। ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা বাংলাদেশকে জানাবেন দীনেশ ত্রিবেদী।

নরেন্দ্র মোদি ভারতের রাজনীতিতে একাধারে নন্দিত ও নিন্দিত এক চরিত্র। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগর গ্রামে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জন্ম নেন। তাঁর বাবা দামোদারদাস মোদি এবং মা হিরাবা মোদি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া মোদির উঠে আসার গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। ভাদনগর রেল স্টেশনে তাঁর বাবার চায়ের দোকানে পড়াশোনার পাশাপাশি চা বিক্রি করতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও বিতর্কের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি গুজরাট ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৭ বছর বয়সে পারিবারিকভাবে যশোদাবেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও তাঁরা খুব কম সময় একসঙ্গে সংসার করেছেন। এ নিয়ে সমালোচকদের নানা কথা থাকলেও মোদি বরাবরই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি প্রথমবার প্রকাশ্যে বিয়ের কথা স্বীকার করেন।

রাজনীতিতে মোদির হাতেখড়ি কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মাধ্যমে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএসের মূল লক্ষ্য ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। ১৯৮০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আরএসএসের প্রশিক্ষিত প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন। সুবক্তা, গোপনীয়তা রক্ষা ও দুর্দান্ত সংগঠক হিসেবে দলে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। ২০০১ সালের জানুয়ারিতে গুজরাটে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে মোদি বড় সুযোগ পান। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি টানা চারবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হলেও ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কারণে তিনি চরমভাবে নিন্দিত হন। ওই দাঙ্গায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল মুসলিম। এ ঘটনায় মোদি কখনো অনুশোচনা প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি। তবে আরএসএসের সুনজরে থাকায় তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কোনো বড় ক্ষতি হয়নি, যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মায়া কোদনানির ২৮ বছরের জেল হয়েছিল। দাঙ্গার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাঁকে বর্জন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ভিসা বাতিল করে। সহিংসতার মুখে অনেক মুসলিম বাড়িঘর ছেড়ে আহমেদাবাদের কাছে ঘেট্টসে বসবাস শুরু করেন।

সব বিতর্ক পেরিয়ে ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদি। ক্ষমতায় আসার পর নিত্যপণ্যের সস্তা মূল্যের কারণে তিনি প্রশংসা পেয়েছেন। তাঁর সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তিনি ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়েছেন। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক ভারত গড়ার ক্ষেত্রেও তাঁর পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, Prime Minister Tarique Rahman

prothomalo-bangla/2026-08-11/g0gpxjhd/Modi-Trivedi-01.jpeg

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে মোদির কাছে ঢাকার ‘সহায়ক পরিবেশের’ বার্তা দিলেন দীনেশ ত্রিবেদী

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে ঢাকার বার্তা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দিল্লিতে গিয়ে তিনি এই বার্তা হস্তান্তর করেন। ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী মোদির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা বাংলাদেশকে জানাবেন দীনেশ ত্রিবেদী।

নরেন্দ্র মোদি ভারতের রাজনীতিতে একাধারে নন্দিত ও নিন্দিত এক চরিত্র। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের মেহসানা জেলার ভাদনগর গ্রামে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জন্ম নেন। তাঁর বাবা দামোদারদাস মোদি এবং মা হিরাবা মোদি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া মোদির উঠে আসার গল্প রূপকথাকেও হার মানায়। ভাদনগর রেল স্টেশনে তাঁর বাবার চায়ের দোকানে পড়াশোনার পাশাপাশি চা বিক্রি করতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও বিতর্কের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। পরবর্তীতে তিনি গুজরাট ইউনিভার্সিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৭ বছর বয়সে পারিবারিকভাবে যশোদাবেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হলেও তাঁরা খুব কম সময় একসঙ্গে সংসার করেছেন। এ নিয়ে সমালোচকদের নানা কথা থাকলেও মোদি বরাবরই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি প্রথমবার প্রকাশ্যে বিয়ের কথা স্বীকার করেন।

রাজনীতিতে মোদির হাতেখড়ি কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মাধ্যমে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএসের মূল লক্ষ্য ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। ১৯৮০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আরএসএসের প্রশিক্ষিত প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন। সুবক্তা, গোপনীয়তা রক্ষা ও দুর্দান্ত সংগঠক হিসেবে দলে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। ২০০১ সালের জানুয়ারিতে গুজরাটে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে মোদি বড় সুযোগ পান। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি টানা চারবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হলেও ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার কারণে তিনি চরমভাবে নিন্দিত হন। ওই দাঙ্গায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল মুসলিম। এ ঘটনায় মোদি কখনো অনুশোচনা প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি। তবে আরএসএসের সুনজরে থাকায় তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কোনো বড় ক্ষতি হয়নি, যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মায়া কোদনানির ২৮ বছরের জেল হয়েছিল। দাঙ্গার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাঁকে বর্জন করে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ভিসা বাতিল করে। সহিংসতার মুখে অনেক মুসলিম বাড়িঘর ছেড়ে আহমেদাবাদের কাছে ঘেট্টসে বসবাস শুরু করেন।

সব বিতর্ক পেরিয়ে ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের ১৬তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদি। ক্ষমতায় আসার পর নিত্যপণ্যের সস্তা মূল্যের কারণে তিনি প্রশংসা পেয়েছেন। তাঁর সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তিনি ব্যাপক তৎপরতা দেখিয়েছেন। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক ভারত গড়ার ক্ষেত্রেও তাঁর পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, Prime Minister Tarique Rahman

prothomalo-bangla/2026-08-11/g0gpxjhd/Modi-Trivedi-01.jpeg

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo