মক্কার আকাশে হুতি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদির, সতর্কতা জারি
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র মক্কা নগরীর আকাশসীমায় পৌঁছানোর আগেই ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। এই ড্রোনটি শনাক্ত করার পর পবিত্র মক্কা নগরী জুড়ে সাময়িক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে সৌদি আরবের এই অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি গোষ্ঠী। রিয়াদের সঙ্গে নতুন করে চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই মক্কাকে লক্ষ্য করে এই ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠল।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শত্রুপক্ষের ড্রোনটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরপর ড্রোনটি সংরক্ষিত আকাশসীমায় প্রবেশ করার আগেই তা ভূপাতিত করা হয়। আল-মালিকি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষতি করার একটি অপচেষ্টা। পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিসহ মুসল্লিদের নিরাপত্তার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ড্রোনটি শনাক্ত হওয়ার পর সৌদি আরব সরকার মক্কা নগরীতে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা মক্কায় হামলার চেষ্টা চালানোর পর সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবারই প্রথম পবিত্র এই নগরীতে এমন সতর্কতা জারি করা হলো। তবে জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই মক্কার এই নিরাপত্তা সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। একই সময়ে জেদ্দা এবং তায়েফ শহরেও একই ধরনের সতর্কতা জারি ও পরে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এদিকে মক্কা নগরীকে নিশানা করার অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। ইয়েমেনের বার্তা সংস্থা সাবা-তে প্রকাশিত হুতিদের একটি সামরিক সূত্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থানের প্রতি ইয়েমেন থেকে কোনো ধরনের হুমকি থাকার তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল। পবিত্র স্থানগুলো তারা কখনোই নিশানা করে না বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
চলমান ইরান যুদ্ধের আবহে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যকার পুরনো বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর আগের দিন সোমবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইত, আবহা এবং তায়েফের বেসামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতিরা। ওই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং ৭টি বাড়ি ও ২টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইয়েমেনের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং কৌশলগত লোহিত সাগরের উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াইকে কেন্দ্র করে হুতিদের সঙ্গে সৌদির এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ তীব্র রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে হুতিরা লোহিত সাগরতীরের কৌশলগত মোখা বন্দর দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালির মুখে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলের ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা বাব আল-মানদেব পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। হুতিদের এই অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারি বাহিনী পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে এবং জোট বাহিনী হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর জবাবে হুতিরাও সৌদির সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।




























