ইরানের সঙ্গে সংঘাত কোনো ‘যুদ্ধ’ নয়: ভ্যান্স
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সঙ্গে চলমান বর্তমান সামরিক পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যা দিতে অস্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন, সক্রিয় যুদ্ধ অভিযান কয়েকমাস আগেই শেষ হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি বা যুদ্ধাবস্থা নেই। এই সংঘাত কবে শেষ হবে কিংবা জ্বালানি তেলের দাম কবে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। ভ্যান্সের মতে, এই সংকটের অবসানের বিষয়টি এখন পুরোপুরি ইরানের ওপর নির্ভর করছে।
চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা তিন দিন সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলেও ভ্যান্স তার অবস্থানে অটল থেকেছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোযোগ ভিন্ন খাতে সরাতে ট্রাম্প প্রশাসন এই সংঘাতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে। পেন্টাগনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৯০ জন আহত হয়েছেন।
বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার এবং মাইন বসানোর প্রায় ৬০টি অবস্থানে বহুমুখী মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অভিযানটি সফল হলেও কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে এটি কোনো দ্রুত সমাধান নয় এবং ইরান দ্রুত তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সংঘাত বন্ধ করার কোনো রাজনৈতিক চাপ তিনি অনুভব করছেন না। এর আগে গ্রীষ্মের শুরুতে ভ্যান্সের উদ্যোগে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা মাত্র দুই সপ্তাহ টিকে ছিল।
সম্প্রতি হরমুজের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবরের তদন্ত চলছে জানিয়ে ভ্যান্স বলেন, মার্কিন বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না। বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে না উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন কোনো আলোচনায় যাবে না। এছাড়া ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে তিনি ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথের বিতর্কিত নেতৃত্বের প্রতিও তিনি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।




























