ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আজকের স্বর্ণ ও রুপার সর্বশেষ বাজার দর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: মানবপাচারের শিকার ২০ বাংলাদেশি নিহত হুতিদের হামলায় সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুখবর পেলেন দুই হাতহীন আলতাফসহ তিন উদ্যোক্তা রাজশাহী কলেজে রুমমেটের দ্বন্দ্বে ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঝালকাঠিতে সরকারি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘পড়া-খেলা উৎসব’ চীনা যন্ত্রাংশে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতিরা ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত পোপ লিও, ইতালিতে সফল অস্ত্রোপচার আয়াসের জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনে আইনজীবীদের হাতাহাতি

রোহিঙ্গাদের জাতিগত অস্তিত্ব অস্বীকার করল মিয়ানমার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নাগরিকদের 'নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে' ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় আবারও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর তোড়জোড়ের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের পুরনো অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে দাবি করেছে যে, 'রোহিঙ্গা' নামে কোনো জাতিগত সত্তার অস্তিত্ব ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারে কখনো ছিল না। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে পালিত 'রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস'-এরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এই পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসিতদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মূল পরিচয়ই যেখানে অস্বীকৃত, সেখানে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা নতুন করে কঠোর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে পড়তে পারেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই’ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে অনুপস্থিত।

এদিকে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল আশ্বস্ত করেছেন যে, জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবির। দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বাস করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের জাতিগত অস্তিত্ব অস্বীকার করল মিয়ানমার

আপডেট সময় : ০১:০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা নাগরিকদের 'নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে' ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় আবারও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর তোড়জোড়ের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের পুরনো অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে দাবি করেছে যে, 'রোহিঙ্গা' নামে কোনো জাতিগত সত্তার অস্তিত্ব ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারে কখনো ছিল না। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে পালিত 'রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস'-এরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এই পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসিতদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মূল পরিচয়ই যেখানে অস্বীকৃত, সেখানে ফেরত পাঠানো হলে রোহিঙ্গারা নতুন করে কঠোর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে পড়তে পারেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই’ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে অনুপস্থিত।

এদিকে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল আশ্বস্ত করেছেন যে, জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর দমন-পীড়নের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবির। দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন ঝুলে রয়েছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বাস করছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh