ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতিতে বড় ধরনের ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের’ আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত ও সম্মানজনক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে শাসনব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি অসুস্থতায় ভুগছিলেন ওয়াংচুক। ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, অসুস্থতার ওই সময়টিকে তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কাজে লাগিয়েছেন। এশিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের অগ্রগতির সঙ্গে ভারতের তুলনা টেনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান গতিপথ অব্যাহত থাকলে উন্নয়নের লক্ষ্য থেকে ভারত ছিটকে পড়তে পারে। মাথাপিছু জিডিপির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান ধারা চলতে থাকলে ২০৪৭ সালে উন্নত দেশ হওয়া তো দূরের কথা, বিশ্ববাজারে মুখ দেখানোর মতো অবস্থাও থাকবে না ভারতের।
ওয়াংচুক ভারতের ভবিষ্যৎকে দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থার শক্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষাগত উন্নতির চেয়ে জাতীয় অগ্রগতি কখনো দ্রুত হতে পারে না। যতদিন শিক্ষা পিছিয়ে থাকবে, দেশের ভবিষ্যৎও ততদিন পিছিয়ে থাকবে। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এবং পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে বড় কোনো সংস্কার আসবে কি না, তা নিয়ে এখনই আশাবাদী হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ নেই।
দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে দায়ী করতে রাজি নন ওয়াংচুক। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দলের সরকার ক্ষমতায় এলেও ভিন্নমতের প্রতি সবার আচরণ ছিল একই রকম। তাই এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট দলের বিষয় নয়, বরং দেশ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেই পদ্ধতিগত সংকটের বিষয়। ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের জেরে সরকার পরিবর্তন হলেও দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান ঘটেনি। বরং দীর্ঘ ১২ বছর পর আজ সেই দুর্নীতি ও অবিচার আরও বড় ও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে।
ওয়াংচুকের মতে, ভারতের মূল দুর্বলতা রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতিতে। নেতৃত্ব সঠিক না হওয়া পর্যন্ত পুরো দেশই ভুল পথে পরিচালিত হবে। গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় থাকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট করেন, এই সমালোচনা কোনো নির্দিষ্ট দল বা বিরোধীদের লক্ষ্য করে নয়, বরং পুরো দেশের মঙ্গলের স্বার্থে।
এই উদ্বেগকে একটি জাতীয় আলোচনায় রূপ দিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করার উদ্যোগ নিয়েছেন ওয়াংচুক। দেশের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের একটি নতুন ‘মানচিত্র’ তৈরি করতে তিনি বিভিন্ন রাজ্য ও শহর সফর করবেন। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ নারী-পুরুষের নাম প্রস্তাব করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দূরবর্তী লাদাখে বসে সবার সন্ধান পাওয়া সম্ভব নয় বলেই তিনি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন। ভিডিও বার্তার শেষভাগে এই আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে এবং আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
১৫ আগস্ট উপলক্ষে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন…
টানা দুই মৌসুম শিরোপাশূন্য থাকার পর এবার রিয়াল মাদ্রিদের সাফল্যের ধারায় ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কিলিয়ান…
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে বকেয়া পাওনা প্রদান…
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন অসাম্প্রদায়িক চেতনা…
মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে চুক্তি ভঙ্গের দায়ে মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে মামলা…
শহীদ কাদরীর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ কেবল একটি প্রেমের কবিতা নয়, এটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, যুদ্ধবিরোধিতা এবং…
This website uses cookies.