আড়াই বছর পর প্রকাশ্যে অং সান সু চি
- আপডেট সময় : ০৩:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বাইরের কারও সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করেছে। সামরিক সরকারের প্রকাশিত ছবিতে তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক দেখা গেছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অং সান সু চিকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগে তাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলের অনেকের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো মামলা হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তী সময়ে তার সাজা কমিয়ে তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়।
মিয়ানমারের সামরিক সরকার সু চির জীবিত থাকা ও সুস্থতার বিষয়ে বারবার আশ্বাস দিলেও এতদিন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেয়নি। এ কারণে তার ছেলে কিম অ্যারিস ৮১ বছর বয়সী মায়ের জীবিত থাকার প্রমাণ চেয়ে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
আইসিআরসির প্রতিনিধিদল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থাটির প্রতিনিধি আর্নো দ্য বাক, সু চির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে সু চিকে হাসিমুখে দেখা গেছে, তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে বা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আইসিআরসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সফরটি বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া মেনেই করা হয়েছে এবং তাদের ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ ছিল।
এই খবরকে স্বাগত জানিয়েছেন কিম অ্যারিস। তিনি বলেন, ছবিগুলো দেখে তার মা ভালো আছেন বলেই মনে হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক সরকারের অতীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ইতিহাস থাকায় এ ধরনের খবরে পুরোপুরি বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকার আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটা বিচ্ছিন্ন। অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের কাছে বিরোধী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা বন্ধ, গৃহযুদ্ধের অবসানে আলোচনা শুরু এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। আইসিআরসি প্রতিনিধিদলের এই সাক্ষাতের অনুমতি পাওয়াকে অনেকেই সামরিক সরকারের অবস্থানে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।



























