নারী-পুরুষ সবার সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে স্বাস্থ্যকর চুলের অবদান অনস্বীকার্য। উজ্জ্বল ও ঘন চুল যেমন বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, তেমনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসও অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তবে বর্তমান সময়ে পরিবেশদূষণ, ধুলোবালি, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি, অপুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং অপ্রয়োজনীয় নানা প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে চুলের নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে চুল পড়া, অতিরিক্ত খুশকি, আগা ফেটে যাওয়া, শুষ্কতা ও ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত ও সঠিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া আবশ্যক।
চুলের স্বাস্থ্যের প্রথম শর্তই হলো মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা। ধুলোবালি, ঘাম ও জমতে থাকা অতিরিক্ত তেল মাথার ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করে, যা পরবর্তীতে খুশকিসহ বিভিন্ন সংক্রমণের কারণ হয়। মাথার ত্বক ও চুলের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত শ্যাম্পু করে স্ক্যাল্প পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে। শ্যাম্পু করার সময় নখ দিয়ে ঘষাঘষি না করে আঙুলের ডগা দিয়ে মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করা উচিত। গোসলের পর শ্যাম্পু ধুয়ে ফেলার পর চুলের মাঝখান থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল নরম থাকে এবং সহজে জট ছাড়ানো যায়।
আমাদের সমাজে চুলের যত্নে তেলের ব্যবহার বহুদিনের একটি প্রচলিত চর্চা। নারকেল তেলসহ বিভিন্ন তেল চুলকে সাময়িকভাবে মসৃণ ও কোমল রাখতে সাহায্য করে। মাথায় তেল দেওয়ার সময়ও জোরে ঘষাঘষি না করে মৃদু ম্যাসাজ করা ভালো। তবে তেল বেশি ব্যবহার করলেই চুল অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর হবে—এই ধারণা ভুল। অতিরিক্ত তেল মাথার ত্বকে জমে গিয়ে উল্টো সমস্যা ও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের স্ক্যাল্প তৈলাক্ত বা খুশকির প্রবণতা বেশি, তাদের তেল ব্যবহারে বাড়তি সতর্ক হতে হবে।
বাহ্যিক পরিচর্যার পাশাপাশি ভেতরের পুষ্টি নিশ্চিত করা চুলের জন্য ভীষণ জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকা আবশ্যক। এর জন্য ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধ, শাকসবজি, ফলমূল এবং নানা ধরনের বাদাম গ্রহণ করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত পানি পান করা দরকার। কঠোর ডায়েট বা পুষ্টির ঘাটতির কারণেও চুল পড়ার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই সার্বিক সুস্থতা ও সুন্দর চুলের জন্য সবসময় সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।
আজকাল চুল স্টাইল করার জন্য হেয়ার ড্রায়ার, কার্লার বা স্ট্রেইটনারের মতো বিভিন্ন আধুনিক তাপ উৎপাদক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে এগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহার চুলকে শুষ্ক ও ভঙ্গুর করে তোলে। পাশাপাশি ঘন ঘন চুলে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট কিংবা রং করার কারণেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়। স্টাইলিংয়ের প্রয়োজনে এসব যন্ত্র ব্যবহারের আগে উপযুক্ত হিট-প্রটেকশন সামগ্রী ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়ানো প্রয়োজন। সবসময় কৃত্রিম স্টাইলে না রেখে চুলকে মাঝে মাঝে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখাও উপকারী।
ভেজা অবস্থায় চুল বেশ নাজুক বা নরম থাকে, তাই গোসলের পরপরই তোয়ালে দিয়ে জোরে চুল ঘষা বা শক্ত করে আঁচড়ানো ঠিক নয়। নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে বাড়তি পানি শুষে নেওয়ার পর চুল কিছুটা শুকিয়ে এলে চওড়া দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। আঁচড়ানোর সময় নিচের আগা থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে ওপরের দিকে এলে জট ছাড়াতে অতিরিক্ত টান পড়ে না, ফলে চুল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও কমে।
দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিমাণ চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও হঠাৎ অতিরিক্ত মাত্রায় চুল পড়তে শুরু করলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টির অভাব, বংশগত কারণ বা বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূল কারণ না জেনে বানিয়ে বিভিন্ন ওষুধ বা অপরীক্ষিত পণ্য চুলে ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে। সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
স্ক্যাল্প অতিরিক্ত শুষ্ক হলে বা অন্য কোনো কারণে মাথায় খুশকির সমস্যা তৈরি হতে পারে। নিয়ম করে মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করলে এ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তবে মাথায় অতিরিক্ত চুলকানি, লালচে ভাব কিংবা ক্ষত তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
চুলের যত্নে প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা চুলের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। জীবনের ব্যস্ততায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সুঅভ্যাস বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত, কারণ শারীরিক সুস্থতার ছাপ ত্বক ও চুলেও প্রতিফলিত হয়।
চুলকে সুন্দর ও প্রাণবন্ত রাখতে সর্বদাই দামি সামগ্রী বা ব্যয়বহুল ট্রিটমেন্টের দরকার পড়ে না। সঠিক পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়াই আসল কথা। এটি কোনো একদিনের বিষয় নয়, বরং নিয়মিত অভ্যাসের অংশ। যদি চুল পড়া বা স্ক্যাল্পের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একটি…
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে অবস্থিত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র নিরাপত্তার খাতিরে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। রবিবার…
সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হামলা এবং সেখানে ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ…
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইটবোঝাই মাহিন্দ্র ট্রাক্টর উল্টে নূর আলম সিকদার (১৫) নামের এক কিশোর হেলপার নিহত…
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এছাড়া…
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ৮টি ফ্লাইট বাতিল…
This website uses cookies.