খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন দুই আইন প্রণয়নের তাগিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের
- আপডেট সময় : ১১:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৫৬
ব্যাংক খাতের ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ এবং দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদের (ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট) চাপ মোকাবিলায় দ্রুত দুটি নতুন আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের উদ্যোগ নিতে সরকারকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬’ প্রণয়ন এবং ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন। গত ৩১ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো এক ডিও চিঠিতে চলমান জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই আইনগুলো উত্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন।
গভর্নর তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্ধ ও মূলধন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা। তবে আর্থিক স্থিতিশীলতার পথে ব্যাংক খাতের বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশের সমান।
খেলাপি ঋণ আদায় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ‘অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩’-এ পাঁচটি প্রধান পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে হাইকোর্টের মর্যাদাসম্পন্ন একটি আপিল ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা, নিলামে ওঠা সম্পদের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পৃথক রিকভারি অফিসার নিয়োগ, মামলা নিষ্পত্তির আইনি সময়সীমা হ্রাস এবং আপিল করার ক্ষেত্রে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এসব পরিবর্তন কার্যকর হলে ঋণসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং পাওনা আদায়ের গতি বাড়বে।
অন্যদিকে, খেলাপি ও দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্সশিট থেকে আলাদা করে ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি’ (ডিএএমসি) গঠন করা হবে, যারা ব্যাংক থেকে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ কিনে নিয়ে পৃথক ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করবে। এই কোম্পানিগুলোকে জামানত বাস্তবায়ন, ঋণ পুনর্গঠন এবং ঋণকে মূলধনে রূপান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে খেলাপি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে, তবে সে ক্ষেত্রে ৬০ দিনের নোটিশ প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। এই পুরো কাঠামো নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট’ (ডিএএমইউ) গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গভর্নর জানান, দুটি আইনের খসড়াই ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এখন দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে আইন দুটি উত্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।





























