ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মতলব উত্তরে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক কলকাতার পূজামণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে নারী ও শিশুসহ নিহত ১৮ মাছরাঙা টিভির দুঃখ প্রকাশে ক্ষুব্ধ পরীমণি, নিজেকেই দায়ী করলেন অপরাধী হিসেবে নেতানিয়াহুকে হটাতে ইসরায়েলের পাঁচ বিরোধী নেতার অনাক্রমণ চুক্তি ২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে চাপে বাংলাদেশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে: আফগানিস্তানকে ৩৩ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের জয় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদকসহ ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪ জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২

আগামী সপ্তাহ থেকে বীমা গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংকটে থাকা বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধের প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে সাত থেকে আটটি কোম্পানির গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, কোম্পানিগুলোর ট্রেজারি বন্ড, এফডিআর ও জমি বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ গ্রাহকদের পাওনা মেটাতে ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যে কিছু কোম্পানির সম্পদ বিক্রির অর্থ আইডিআরএ-এর তদারকিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। তিনি বলেন, জমি বিক্রি ও লিকুইডেশনের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা আসা মাত্রই তা গ্রাহকদের দেওয়া শুরু হবে।

গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ (এফআইএফও) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানান মীর নাদিয়া নিভিন। অর্থাৎ, যে গ্রাহকের দাবি আগে এসেছে, তাকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোম্পানিগুলো সরাসরি ওই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ না পায়।

বিশেষভাবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রসঙ্গ টেনে আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রিমিয়াম গ্রহণ বন্ধ রাখা হলেও নবায়ন প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ বহাল আছে। ফেনীতে থাকা একটি জমি ও কিছু বন্ড বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে আগামী সপ্তাহেই ফারইস্টের দাবি পরিশোধ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকশ কোটি টাকা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও জমি বিক্রির দরপত্র দেওয়া হচ্ছে।

মীর নাদিয়া নিভিনের ভাষ্যমতে, ফারইস্টের সব সম্পদ নগদায়ন করা সম্ভব হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে। এই অর্থ দিয়ে বড় অংশের দাবি নিষ্পত্তি করার পর কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পারলে বড় কোম্পানিগুলোও সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

বীমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে আইডিআরএ-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইডিআরএ নিয়মিত কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও আর্থিক তথ্য যাচাই করছে। কর্মশালায় আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও মো. কাজিম উদ্দিন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

আগামী সপ্তাহ থেকে বীমা গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সংকটে থাকা বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদ নগদায়ন করে গ্রাহকদের বকেয়া দাবি পরিশোধের প্রক্রিয়া আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে সাত থেকে আটটি কোম্পানির গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক আবাসিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, কোম্পানিগুলোর ট্রেজারি বন্ড, এফডিআর ও জমি বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ গ্রাহকদের পাওনা মেটাতে ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যে কিছু কোম্পানির সম্পদ বিক্রির অর্থ আইডিআরএ-এর তদারকিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। তিনি বলেন, জমি বিক্রি ও লিকুইডেশনের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা আসা মাত্রই তা গ্রাহকদের দেওয়া শুরু হবে।

গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট’ (এফআইএফও) পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে জানান মীর নাদিয়া নিভিন। অর্থাৎ, যে গ্রাহকের দাবি আগে এসেছে, তাকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে এবং সেখানে নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোম্পানিগুলো সরাসরি ওই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ না পায়।

বিশেষভাবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রসঙ্গ টেনে আইডিআরএ চেয়ারম্যান জানান, কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির নতুন প্রিমিয়াম গ্রহণ বন্ধ রাখা হলেও নবায়ন প্রিমিয়াম নেওয়ার সুযোগ বহাল আছে। ফেনীতে থাকা একটি জমি ও কিছু বন্ড বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে আগামী সপ্তাহেই ফারইস্টের দাবি পরিশোধ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে কয়েকশ কোটি টাকা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও জমি বিক্রির দরপত্র দেওয়া হচ্ছে।

মীর নাদিয়া নিভিনের ভাষ্যমতে, ফারইস্টের সব সম্পদ নগদায়ন করা সম্ভব হলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাওয়া যেতে পারে। এই অর্থ দিয়ে বড় অংশের দাবি নিষ্পত্তি করার পর কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পারলে বড় কোম্পানিগুলোও সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।

বীমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে আইডিআরএ-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, পলিসিহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইডিআরএ নিয়মিত কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও আর্থিক তথ্য যাচাই করছে। কর্মশালায় আইআরএফ সভাপতি গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সিইও মো. কাজিম উদ্দিন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইআরএফ সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin