ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোনালী ব্যাংকের এটিএমসহ সব ডিজিটাল লেনদেন দুই দিন বন্ধ প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন: রাষ্ট্রপতি আজকের স্বর্ণ ও রুপার সর্বশেষ বাজার দর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: মানবপাচারের শিকার ২০ বাংলাদেশি নিহত হুতিদের হামলায় সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুখবর পেলেন দুই হাতহীন আলতাফসহ তিন উদ্যোক্তা রাজশাহী কলেজে রুমমেটের দ্বন্দ্বে ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঝালকাঠিতে সরকারি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘পড়া-খেলা উৎসব’ চীনা যন্ত্রাংশে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতিরা

শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবল সংকট, সেবা না পেয়ে রোগীদের ভোগান্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতিও রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে সামান্য রক্ত পরীক্ষাও এখানে করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এছাড়া ওষুধের সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধও রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা গেছে। ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান না থাকায় ল্যাবের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের ঢাকা ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও খরচ দুই-ই বাড়ছে।

হাসপাতালের শূন্য পদের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চিকিৎসকের অনুমোদিত ৫১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩১ জন। এর মধ্যে আবার ১১ জন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত থাকায় হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক। এই সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া নার্সের ৬টি পদ, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের ৩টি পদই শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় শ্রেণির ৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৯টি পদও শূন্য পড়ে আছে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে এই অঞ্চলের চিকিৎসাসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। এলাকাবাসীও দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণ করে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র জনবল সংকট, সেবা না পেয়ে রোগীদের ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন তীব্র জনবল সংকটে ধুঁকছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতিও রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে সামান্য রক্ত পরীক্ষাও এখানে করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এছাড়া ওষুধের সরকারি বরাদ্দ কম থাকায় অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধও রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

প্রতিদিন গড়ে ৬৫০ থেকে ৭০০ রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক রোগীর বিপরীতে চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা গেছে। ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান না থাকায় ল্যাবের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে জটিল রোগীদের ঢাকা ও অন্যান্য বড় হাসপাতালে রেফার করতে হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও খরচ দুই-ই বাড়ছে।

হাসপাতালের শূন্য পদের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চিকিৎসকের অনুমোদিত ৫১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩১ জন। এর মধ্যে আবার ১১ জন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংযুক্ত থাকায় হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ২০ জন চিকিৎসক। এই সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া নার্সের ৬টি পদ, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের ৩টি পদই শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় শ্রেণির ৫টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৯টি পদও শূন্য পড়ে আছে।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে এই অঞ্চলের চিকিৎসাসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। এলাকাবাসীও দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণ করে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh