ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নওগাঁয় ৩ বছরের শিশু সহ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা মৌলভীবাজার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ওয়াইফাই সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু অবশেষে ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুরে তৈরি হচ্ছে সংসদ সদস্যর অফিস রংপুরে ডিসি’র সাথে যুবদল-সেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সৌজন্য সাক্ষাত প্রান বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড এর বিভিন্ন জাতের ধান-গাছ পরিদর্শন রংপুর সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার রোধে সতর্ক বিজিবি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগের দিনও প্রবেশপত্র পায়নি ২৯ পরীক্ষার্থী প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ রূপগঞ্জে জমি বিরোধে বিধবার দোকানে ভাঙচুর, ৭টিতে তালা দেওয়ার অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার রহস্যময় বন্দিশালা আয়নাঘর—একটি নাম, যা দীর্ঘদিন ছিল শুধুই গুজব, ফিসফাসের বিষয়। কিন্তু এখন, যখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে, তখন উঠে আসছে ভয়াবহ সব গল্প—গুম, নির্যাতন, নিঃশব্দ মৃত্যু।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন এই গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শন করেন, তখন সেখানে অতীতের নির্দয়তার চিহ্ন মুছে ফেলার সব চেষ্টাই স্পষ্ট ছিল। দেয়ালগুলোর ওপর নতুন রং, মুছে দেওয়া বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা বিভাজনগুলো যেন এক ইতিহাসকে গোপন করার ব্যর্থ প্রয়াস।

কিন্তু ইতিহাস কি এত সহজে হারিয়ে যায়?

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের বর্ণনা করা নির্যাতনের কক্ষগুলো অনেকটাই অক্ষত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ আলামত চিরতরে হারিয়ে গেছে। ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম বা গোপন সিসিটিভির ফুটেজের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কারা এসব মুছে দিল? কেন?

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অন্ধকার কক্ষে কাটিয়ে দেওয়া সেই দিনগুলোর কথা। সেখানে সময় থমকে থাকত, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু নির্যাতন, আরেকটি নতুন দিনের ভয়।

সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে, তদন্ত চলবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি সত্যিকার বিচার হবে? যারা নিখোঁজ হয়েছিল, যারা ফিরেও আসেনি—তাদের স্মৃতি কি এই দেয়ালের রঙের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি একদিন সত্যের আলোয় উন্মোচিত হবে আয়নাঘরের অন্ধকার অধ্যায়?
সময় দেবে সেই উত্তর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

আয়নাঘর: নিঃশব্দ দেয়ালের পেছনে লুকানো সত্য

আপডেট সময় : ১২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
print news

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার রহস্যময় বন্দিশালা আয়নাঘর—একটি নাম, যা দীর্ঘদিন ছিল শুধুই গুজব, ফিসফাসের বিষয়। কিন্তু এখন, যখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে, তখন উঠে আসছে ভয়াবহ সব গল্প—গুম, নির্যাতন, নিঃশব্দ মৃত্যু।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন এই গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শন করেন, তখন সেখানে অতীতের নির্দয়তার চিহ্ন মুছে ফেলার সব চেষ্টাই স্পষ্ট ছিল। দেয়ালগুলোর ওপর নতুন রং, মুছে দেওয়া বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা বিভাজনগুলো যেন এক ইতিহাসকে গোপন করার ব্যর্থ প্রয়াস।

কিন্তু ইতিহাস কি এত সহজে হারিয়ে যায়?

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের বর্ণনা করা নির্যাতনের কক্ষগুলো অনেকটাই অক্ষত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ আলামত চিরতরে হারিয়ে গেছে। ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম বা গোপন সিসিটিভির ফুটেজের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কারা এসব মুছে দিল? কেন?

বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অন্ধকার কক্ষে কাটিয়ে দেওয়া সেই দিনগুলোর কথা। সেখানে সময় থমকে থাকত, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু নির্যাতন, আরেকটি নতুন দিনের ভয়।

সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে, তদন্ত চলবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি সত্যিকার বিচার হবে? যারা নিখোঁজ হয়েছিল, যারা ফিরেও আসেনি—তাদের স্মৃতি কি এই দেয়ালের রঙের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি একদিন সত্যের আলোয় উন্মোচিত হবে আয়নাঘরের অন্ধকার অধ্যায়?
সময় দেবে সেই উত্তর।