মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকার রহস্যময় বন্দিশালা আয়নাঘর—একটি নাম, যা দীর্ঘদিন ছিল শুধুই গুজব, ফিসফাসের বিষয়। কিন্তু এখন, যখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে, তখন উঠে আসছে ভয়াবহ সব গল্প—গুম, নির্যাতন, নিঃশব্দ মৃত্যু।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন এই গোপন বন্দিশালাটি পরিদর্শন করেন, তখন সেখানে অতীতের নির্দয়তার চিহ্ন মুছে ফেলার সব চেষ্টাই স্পষ্ট ছিল। দেয়ালগুলোর ওপর নতুন রং, মুছে দেওয়া বন্দিদের লেখা, ভেঙে ফেলা বিভাজনগুলো যেন এক ইতিহাসকে গোপন করার ব্যর্থ প্রয়াস।
কিন্তু ইতিহাস কি এত সহজে হারিয়ে যায়?
গুম কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দিদের বর্ণনা করা নির্যাতনের কক্ষগুলো অনেকটাই অক্ষত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ আলামত চিরতরে হারিয়ে গেছে। ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম বা গোপন সিসিটিভির ফুটেজের কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—কারা এসব মুছে দিল? কেন?
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অন্ধকার কক্ষে কাটিয়ে দেওয়া সেই দিনগুলোর কথা। সেখানে সময় থমকে থাকত, বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু নির্যাতন, আরেকটি নতুন দিনের ভয়।
সরকার বলছে, আয়নাঘর সিলগালা থাকবে, তদন্ত চলবে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো—এই তদন্ত কি শুধুই লোক দেখানো, নাকি সত্যিকার বিচার হবে? যারা নিখোঁজ হয়েছিল, যারা ফিরেও আসেনি—তাদের স্মৃতি কি এই দেয়ালের রঙের নিচে ঢাকা পড়ে যাবে? নাকি একদিন সত্যের আলোয় উন্মোচিত হবে আয়নাঘরের অন্ধকার অধ্যায়?
সময় দেবে সেই উত্তর।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার; সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ। প্রকাশক কর্তৃক সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিস : সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ (অস্থায়ী কার্যালয়)। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২