রৌমারীতে প্রধান শিক্ষককে পেটালেন আ’লীগ নেতা।
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৩ ৩৪৯ বার পড়া হয়েছে

হীমেল কুমার মিত্রঃ কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ফুলকারচর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নবীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক। (১৯ জানুয়ারি) বিকালে রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে। সিসি টিভির ক্যামরায় এ দৃশ্য ধরা পড়ে। পরে সেখানে উপস্থিত লোকজন আহতাবস্থায় ওই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতাল ভর্তি করেন।
এদিকে এ ঘটনায় রাত ৮টার দিকে প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রোকনুজ্জামানসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযাগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় শিক্ষক সমাজসহ উপজেলা জুড়ে চলছে বিভিন্ন সমালোচনা।
শিক্ষক নুরুন্নবী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রোকন ও আসাদুল ইসলামের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুর রশিদসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যান তিনি। কাজ শেষে অফিসের দোতলা থেকে নেমে উপজেলা চত্বরে গেলে আওয়ামী লীগ নেতা রোকন ও তার সঙ্গীয় লোকজন জোরপূর্বক তাকে (প্রধান শিক্ষক) তুলে নিয়ে প্রথমে পলি বাস কাউন্টারে আটকে রাখেন। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে মোটরসাইকেলে করে ওই প্রধান শিক্ষককে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রার বিদ্যালয় অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ওই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে ঘটনা খুলে বলতে থাকেন। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা রোকন ক্ষিপ্ত হয়ে ২ হাত দিয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের গালে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। একপর্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ার থেকে উঠে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে থামান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহত ওই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। বাদশাহ্ সৈকত।
প্রধান শিক্ষককে পেটানোর বিষয়টি স্বীকার করে রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান রোকন জানান, নিয়াগ সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে ওই প্রধান শিক্ষক আমাকে দালাল বলেছেন। এ সময় আমি নিজেকে সংযত রাখতে না পেরে তাকে ২টা থাপ্পড় মেরেছি।
রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রৌমারী সিজি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ নেতা রোকন ওই প্রধান শিক্ষককে আমার অফিস কক্ষে নিয়ে আসেন। ওই প্রধান শিক্ষক কথা বলার সময় হঠাৎ তাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারতে থাকেন রোকন। তিনি বলেন, ‘রোকন এটা মোটেও ঠিক করেননি।’
তার বিরুদ্ধ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে জানানো হয়েছে। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।























