ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫ম ও শেষ পর্ব: ধর্ষণ বন্ধে এখনই কী করা জরুরি? ফেনী-ছাগলনাইয় মহাসড়ক এখন চালক ও যাত্রীদের জন্য মৃত্যুর ফাঁদ ফেনী ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগ ঘিরে অবৈধ দখলের অভিযোগ চট্টগ্রামের ১১ বছর বয়সী ৫ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ১ যুবক গ্রেফতার নওগাঁ চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ৯ যুবক, তাদের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ ৩টি গ্রাম কনফেকশনারির আড়ালে মাদক ব্যবসা, ডিবির অভিযানে কুখ্যাত মাদক আটক ভুয়া পরিচয়ে ওসির কভার ফটো তৈরি, রাণীশংকৈলে যুবক আটক ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরের অর্ধশতাধিক স্থানে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত ফুলবাড়ীতে বিজিবি কর্তৃক মালিকবিহীন যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক

৫ম ও শেষ পর্ব: ধর্ষণ বন্ধে এখনই কী করা জরুরি?

মাহের আহমেদ, সম্পাদক ও প্রকাশক
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আগের চারটি পর্বে আমরা ধর্ষণের ভয়াবহতা, কারণ, নৈতিক সংকট এবং বিচারহীনতার দিকগুলো দেখেছি। এবার সময় সমাধানের কথা বলার।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না; কার্যকর পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ প্রতিটি নতুন ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমস্যা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা। ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বা প্রভাব দেখে নয়; অপরাধ দেখে বিচার করতে হবে। এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন অপরাধীরা আইনের ভয় অনুভব করে।

একইসঙ্গে মাদক, পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এগুলো তরুণ সমাজের মানসিকতা নষ্ট করছে।

সমাজের দায়িত্বও কম নয়। ধর্ষকের সামাজিক বয়কট নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ নয়, সহযোগিতা করতে হবে। কারণ একটি ধর্ষণের পর সবচেয়ে বেশি মানসিক কষ্ট ভোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানদের শুধু ডিগ্রি নয়, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষাও দিতে হবে। ছেলে সন্তানকে নারীর প্রতি সম্মান শেখাতে হবে।

আমাদের কী বর্জন করা উচিত?

  • অশ্লীলতা
  • মাদক
  • পর্নোগ্রাফি
  • ধর্ষককে আশ্রয় দেওয়া
  • ভুক্তভোগীকে অপমান করা
  • সামাজিক নীরবতা

আর কী করা উচিত?

  • ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাড়ানো
  • দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা
  • পরিবারে সচেতনতা তৈরি করা
  • নারীর প্রতি সম্মান শেখানো
  • সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা

আজ সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার—
আমরা কি একটি নিরাপদ সমাজ চাই, নাকি প্রতিদিন নতুন নতুন শিরোনাম দেখে নীরব থাকবো?
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়ন, রাজনীতি ও সভ্যতার সব দাবিই একদিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।
এখনই সময় জেগে ওঠার।

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
২. ইউনিসেফ বাংলাদেশ
৩. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
৪. পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সামাজিক নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

৫ম ও শেষ পর্ব: ধর্ষণ বন্ধে এখনই কী করা জরুরি?

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
print news

আগের চারটি পর্বে আমরা ধর্ষণের ভয়াবহতা, কারণ, নৈতিক সংকট এবং বিচারহীনতার দিকগুলো দেখেছি। এবার সময় সমাধানের কথা বলার।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না; কার্যকর পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ প্রতিটি নতুন ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমস্যা এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করা। ধর্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থ বা প্রভাব দেখে নয়; অপরাধ দেখে বিচার করতে হবে। এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন অপরাধীরা আইনের ভয় অনুভব করে।

একইসঙ্গে মাদক, পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এগুলো তরুণ সমাজের মানসিকতা নষ্ট করছে।

সমাজের দায়িত্বও কম নয়। ধর্ষকের সামাজিক বয়কট নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ নয়, সহযোগিতা করতে হবে। কারণ একটি ধর্ষণের পর সবচেয়ে বেশি মানসিক কষ্ট ভোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার।

পরিবারকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তানদের শুধু ডিগ্রি নয়, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষাও দিতে হবে। ছেলে সন্তানকে নারীর প্রতি সম্মান শেখাতে হবে।

আমাদের কী বর্জন করা উচিত?

  • অশ্লীলতা
  • মাদক
  • পর্নোগ্রাফি
  • ধর্ষককে আশ্রয় দেওয়া
  • ভুক্তভোগীকে অপমান করা
  • সামাজিক নীরবতা

আর কী করা উচিত?

  • ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাড়ানো
  • দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা
  • পরিবারে সচেতনতা তৈরি করা
  • নারীর প্রতি সম্মান শেখানো
  • সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা

আজ সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার—
আমরা কি একটি নিরাপদ সমাজ চাই, নাকি প্রতিদিন নতুন নতুন শিরোনাম দেখে নীরব থাকবো?
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে উন্নয়ন, রাজনীতি ও সভ্যতার সব দাবিই একদিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।
এখনই সময় জেগে ওঠার।

মাহের আহমেদ
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক যখন সময়

সূত্র:
১. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
২. ইউনিসেফ বাংলাদেশ
৩. আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)
৪. পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সামাজিক নৈতিকতা বিষয়ক আলোচনা