ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোম্পানীগঞ্জে ১৯ মামলার আসামি ডাকাত মাইস্যা গ্রেফতার সোনাগাজীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘরে চুরি সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ফসলের বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটি চাপায় ১ তরুণের মৃত্যু ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ চড়ক মেলা অনুষ্ঠিত মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর মাদকের স্বর্গরাজ্য,হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক, থানায় অভিযোগের পাহাড় নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি বগুড়ার শেরপুর বরাদ্দকৃত কম্বল বিতরণ না করে আত্মসাৎ এর চেষ্টা। ফুলগাজীতে চুরির ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সহজলভ্যতা ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে : রংপুরে অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো বন্ধের দাবি

জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন যেন নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনো গোয়ালঘর। ঝুঁকিপূর্ণ আধা পাকা ভবন ও তীব্র জনবল-সংকটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার চিকিৎসাসেবা। কয়েক হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি বর্তমানে অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র বহন করছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আধা পাকা ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে, চারপাশও অপরিচ্ছন্ন। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। কেন্দ্রের বারান্দা ও আশপাশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা এবং কাঠ সংরক্ষণের দৃশ্যও দেখা গেছে। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চৈত্রকোল গ্রামের বাসিন্দা সরিফুল ইসলাম জানান, অসুস্থ হলে এই কেন্দ্রেই আগে আসতাম। কিন্তু এখন এখানে চিকিৎসক নেই। অনেক সময় ওষুধও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ফিলিপ লাকড়া জানান, মাতৃসেবা বা জরুরি চিকিৎসার জন্য এই কেন্দ্রটি খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু জনবল না থাকায় সঠিকভাবে সেবা পাওয়া যায় না। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী এখানে ১ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন অফিস সহায়ক থাকার কথা। অথচ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১ জন ফার্মাসিস্ট। জনবল-সংকটের কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধের মুখে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র ফার্মাসিস্ট সোহেল রানা জানান, জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে

আপডেট সময় : ১২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন যেন নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনো গোয়ালঘর। ঝুঁকিপূর্ণ আধা পাকা ভবন ও তীব্র জনবল-সংকটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার চিকিৎসাসেবা। কয়েক হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি বর্তমানে অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র বহন করছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আধা পাকা ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে, চারপাশও অপরিচ্ছন্ন। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। কেন্দ্রের বারান্দা ও আশপাশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা এবং কাঠ সংরক্ষণের দৃশ্যও দেখা গেছে। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চৈত্রকোল গ্রামের বাসিন্দা সরিফুল ইসলাম জানান, অসুস্থ হলে এই কেন্দ্রেই আগে আসতাম। কিন্তু এখন এখানে চিকিৎসক নেই। অনেক সময় ওষুধও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ফিলিপ লাকড়া জানান, মাতৃসেবা বা জরুরি চিকিৎসার জন্য এই কেন্দ্রটি খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু জনবল না থাকায় সঠিকভাবে সেবা পাওয়া যায় না। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী এখানে ১ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন অফিস সহায়ক থাকার কথা। অথচ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১ জন ফার্মাসিস্ট। জনবল-সংকটের কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধের মুখে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র ফার্মাসিস্ট সোহেল রানা জানান, জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।