বগুড়ার শেরপুরে ১৩ বছরের এক কিশোরকে রাতভর আটকে শারীরিক নির্যাতন উলঙ্গ করে নাচানোর ভিডিও ধারণ।
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ৪১৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে রাতভর অবৈধভাবে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সময় ওই কিশোরকে উলঙ্গ করে মিউজিকের তালে জোরপূর্বক নাচানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা শেরপুর থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার হামছায়াপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ জহুরুল ইসলাম এর ছেলে মাহমুদুল হাসান স্বপ্নীল স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলা করত। প্রায় দুই মাস আগে শেরপুর থানাধীন খন্দকারটোলা গ্রামের তাকওয়া মসজিদের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় স্বপ্নীলের হাতে থাকা একটি র্যাকেট ভেঙে যায়। ওই র্যাকেটটি অভিযুক্তদের একজনের ছিল বলে জানা যায়।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা স্বপ্নীলের বাড়িতে গিয়ে নতুন র্যাকেট কিনে দেওয়ার দাবি জানায়। স্বপ্নীলের বাবা জহুরুল ইসলাম তাদের দুইদিন পর নতুন র্যাকেট কিনে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু পরে তিনি র্যাকেট নিতে বললেও অভিযুক্তরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে শেরপুর পৌরসভার আঁখি মনি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে অভিযুক্তরা কৌশলে স্বপ্নীলকে ডেকে নেয়। পরে তাকে শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে আটক করে রাখা হয়। ওই বাসাটি মৃত শামসু হুদার বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—
মোঃ আব্দুল্লাহ আল সাদ পিতাঃ মোঃ সালাউদ্দিন ইসলাম (দারা), সাং- হামছায়াপুর কাঠালতলা, থানাঃ শেরপুর, জেলাঃ বগুড়। মোঃ মোত্তালিব আলভী পিতাঃ মোঃ মুঞ্জুর আলম, সাং- বেংনাই, ইউপিঃ পাঙ্গাসী, থানাঃ রায়গঞ্জ, জেলাঃ সিরাজগঞ্জ।
মোঃ আহনাফ শাহরিয়ার জাহেন পিতাঃ মোঃ শহিদ আক্তার থানাঃ শেরপুর, জেলাঃ বগুড়া।
মোঃ সিয়াম পিতাঃ মোঃ আসাদ আলী, সাং- খন্দকারটোলা, থানাঃ শেরপুর, জেলাঃ বগুড়া, মোঃ সুফিয়ান শাহরি পিতাঃ অজ্ঞাত, সাং- খন্দকারটোলা, থানাঃ শেরপুর, জেলাঃ বগুড়া। মোঃ সাদিকুর রহমান অয়ন পিতাঃ মোঃ লুৎফর রহমান, সাং- বাগানবাড়ী, থানাঃ শেরপুর, জেলাঃ বগুড়া।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের একজন অন্যদের নির্দেশ দিয়ে কিশোরটিকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর কয়েকজন মিলে তাকে মারধর শুরু করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ফোলা জখম হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ মার্চ রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে অপমান করার উদ্দেশ্যে তার পরনের কাপড় খুলে বিবস্ত্র করে ফেলে। এরপর মিউজিক চালিয়ে জোরপূর্বক তাকে নাচতে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নাচতে নাচতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়লে আবারও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযুক্তদের কয়েকজন স্বপ্নীলের মাথার চুল কেটে তার মাথার আকৃতি বিকৃত করে দেয়। একপর্যায়ে ধারালো বস্তু দিয়ে তার মাথার সামনের অংশে আঘাত করে জখম করা হয়। পরে আরও একজন অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে এসে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে রাতভর ছেলে বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্তদের দুজন স্বপ্নীলের বাবাকে জানান, তাকওয়া মসজিদে চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে স্বপ্নীলের বাবা-মা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ৬ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত সে চিকিৎসাধীন ছিল।
এ ঘটনায় মো. শরিফ আহম্মেদ ও মোঃ হামিদুল ইসলাম সহ স্থানীয় কয়েকজন ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।






















