ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোম্পানীগঞ্জে ১৯ মামলার আসামি ডাকাত মাইস্যা গ্রেফতার সোনাগাজীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘরে চুরি সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ফসলের বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটি চাপায় ১ তরুণের মৃত্যু ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ চড়ক মেলা অনুষ্ঠিত মুগদা–মান্ডা–মানিকনগর মাদকের স্বর্গরাজ্য,হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক, থানায় অভিযোগের পাহাড় নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি বগুড়ার শেরপুর বরাদ্দকৃত কম্বল বিতরণ না করে আত্মসাৎ এর চেষ্টা। ফুলগাজীতে চুরির ঘটনায় ১ জন গ্রেফতার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানি তেলের সংকট সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর সহজলভ্যতা ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিচ্ছে : রংপুরে অনলাইন জুয়া-ক্যাসিনো বন্ধের দাবি

আজ ২ মার্চ ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর

আজ (২ মার্চ) বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। একাত্তরের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনে প্রথম জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছিল। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত পতাকা। ওইদিন পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছিল আমজনতা।

প্রকৃতপক্ষে সেদিনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি ছাত্র-জনতা স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের পথে যাত্রা শুরু করে। পতাকা উত্তোলনই জানান দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের বিকল্প নেই।

দীর্ঘ ৯ মাসের বহু ত্যাগ, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ৯ মাস এই পতাকাই বিবেচিত হয় আমাদের জাতীয় পতাকা হিসেবে।

ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষিত হওয়ায় সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ঢাকার রাজপথে অবস্থান নেয়, ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর জুলুম, নিগ্রহ, শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

অকুতোভয় ছাত্রসমাজ ও জনতা পাকিস্তানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জানিয়ে দেয় বাঙালিরা মাথা নত করবে না।

বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ওই পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা আ স ম আব্দুর রব। তখন ছাত্র সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ, আ স ম আব্দুর রব সহ অনেকেই।

পরে ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

যদিও সেসময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্ত ছিল না। তখন সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র ছিল, যা শিব নারায়ণ দাশ নকশা করেছিলেন।

পরে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে পতাকার বর্তমান রূপ গৃহীত হয়, যেখানে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। এর নকশা করেন কামরুল হাসান। সবুজের মাঝে লাল রঙের ভরাট বৃত্তটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতার নতুন সূর্যের প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

আজ ২ মার্চ ঐতিহাসিক জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস

আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
print news

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর

আজ (২ মার্চ) বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। একাত্তরের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনে প্রথম জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছিল। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত পতাকা। ওইদিন পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ডাকসুর সহসভাপতি আ স ম আবদুর রব।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছিল আমজনতা।

প্রকৃতপক্ষে সেদিনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি ছাত্র-জনতা স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের পথে যাত্রা শুরু করে। পতাকা উত্তোলনই জানান দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের বিকল্প নেই।

দীর্ঘ ৯ মাসের বহু ত্যাগ, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতা সংগ্রামের ৯ মাস এই পতাকাই বিবেচিত হয় আমাদের জাতীয় পতাকা হিসেবে।

ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষিত হওয়ায় সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ঢাকার রাজপথে অবস্থান নেয়, ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর জুলুম, নিগ্রহ, শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।

অকুতোভয় ছাত্রসমাজ ও জনতা পাকিস্তানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জানিয়ে দেয় বাঙালিরা মাথা নত করবে না।

বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ওই পতাকা সর্বপ্রথম উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা আ স ম আব্দুর রব। তখন ছাত্র সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ, আ স ম আব্দুর রব সহ অনেকেই।

পরে ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডিতে তার নিজ বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

যদিও সেসময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ সবুজ আয়তক্ষেত্রের মাঝে লাল বৃত্ত ছিল না। তখন সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্র ছিল, যা শিব নারায়ণ দাশ নকশা করেছিলেন।

পরে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে পতাকার বর্তমান রূপ গৃহীত হয়, যেখানে মানচিত্র বাদ দেওয়া হয়। এর নকশা করেন কামরুল হাসান। সবুজের মাঝে লাল রঙের ভরাট বৃত্তটি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতার নতুন সূর্যের প্রতীক।