ফেনীতে ভোট কেন্দ্র থেকে জুলাই যোদ্ধাকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

তিমির চন্দ্র দাস ক্রাইম রিপোর্টার ফেনী
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ভোটকেন্দ্র থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক শাহাদাত হাসানকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন ও একটি হাতঘড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী,
শাহাদাত হাসান ফেনী ইউনিভার্সিটির বিবিএ ৪র্থ সেমিস্টারের ছাত্র।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের বাগিশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে মুখোশধারী কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে যায়, পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে রড দিয়ে মারধর করা হয় এবং অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়, এ সময় তার বুকের ওপর পা দিয়ে গলায় ছুরি ধরে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও জানান তিনি।
শাহাদাত আরো বলেন, তাদের দাবি ছিল আমি জামায়াতের সমর্থক এবং ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট গ্রহণে সহযোগিতা করেছি, অথচ আমার পরিবার বিএনপি ও মরহুম জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান যে, মাগরিবের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, অভিযোগ করে বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে দিয়ে কিছু ভিডিও ধারণ করা হয়, যেখানে তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, একই সঙ্গে বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়।
শাহাদাতের দাবি, প্রশাসনের কাছে গেলে তার ও তার পরিবারের ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে যাদের জন্য রক্ত ঝরিয়েছি, আজ তাদের হাতেই নির্যাতিত হলাম, গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে রাখায় দুর্বৃত্তদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফেনী জেলার সাবেক সমন্বয়ক ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগী শাহাদাত হাসান নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি তুলে ধরেছিলেন, অথচ, কোনো এক অদৃশ্য শক্তির চাপে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি, উল্টো ওই পোস্টটিই সরিয়ে নিতে বাধ্য হন সে।
বিষয়টি তদন্তপূর্বক জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট জোর দাবি জানান সাবেক সমন্বয়ক ওমর ফারুক।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এমন কোন অভিযোগ পায়নি পুলিশ, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















